
গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সন্ত্রাসকবলিত দুই প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তানে কয়েক দিন ধরে অভিযান পরিচালনা করেছে সেনা-পুলিশবাহিনী। এতে দুই প্রদেশে নিহত হয়েছেন মোট ৩৪ জন সন্ত্রাসী-বিচ্ছিন্নতাবাদী।
এই ৩৪ জনের মধ্যে ২৬ জন খাইবার পাখতুনখোয়ার এবং ৮ জন বেলুচিস্তানের। গত বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী সংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর)। খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিহতদের মধ্যে আফগানিস্তানের এক নাগরিক আছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়ার উত্তর ওয়াজিরিস্তান, লাক্কি মারওয়াত, বান্নু এবং বেলুচিস্তানের সাম্বাজা জেলায় চার দফা অভিযান পরিচলনা করেছে। সেই অভিযানে নিহত হয়েছে এই ৩৪ জন। খাইবার পাখতুনখোয়ায় যারা নিহত হয়েছেন- তারা সবাই পাকিস্তাানের তালেবানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সদস্য; আর বেলুচিস্তানে নিহতদের সবাই বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি’র সদস্য।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজন আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ করার সময় সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। যে চার জেলার অভিযানস্থল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গোলাবারুদ, অস্ত্র, বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে আইএসপিআরের বিবৃতিতে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে অভিযান টিমের চারজন পুলিশসদস্যও নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের চার রাজ্য ও তিন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান- এ দু’টি রাজ্যে গত কয়েক বছরে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও হামলার নাটকীয় উল্লম্ফন ঘটেছে। খাইবার পাখতুনখোয়া মূলত পাকিস্তানের তালেবানপন্থি গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান-এর (টিটিপি) ঘাঁটি অঞ্চল। অন্যদিকে বেলুচিস্তানে ব্যাপকভাবে তৎপর বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। ২০২১ সাল থেকে সন্ত্রাসী হামলার উল্লম্ফন পরিলক্ষিত হচ্ছে পাকিস্তানে। এর মধ্যে ২০২৪ সাল ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ বছর। ২০২৪ সালের বছরজুড়ে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা ৪৪টি সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে। শতকরা হিসেবে গত এক দশকের মধ্যে ২০২৪ সালে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার হার ছিল ৪০ শতাংশ বেশি।
সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ উসকে দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সবসময় দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও আফগানিস্তানকে দায়ী করে; তবে ভারত-আফগানিস্তান উভয়েই পাকিস্তানের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।