
নয়াদিল্লিতে ভারত-ফিনল্যান্ড বৈঠক, মার্কিন সিনেটে ট্রাম্পের জয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের উত্তেজনার মধ্যেই চীনের বার্ষিক রাজনৈতিক কর্মসূচি ‘টু সেশনস’ (লিয়ানঘুই) শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেইজিংয়ে শুরু হয়েছে এই রাজনৈতিক কর্মসূচি। ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) এই অধিবেশনে চীনের ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা এবং সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। অধিবেশনে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়া নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
বার্ষিক এ কর্মসূচিতে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে চীন। ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে (ইরানে) চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চীন অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। ‘আধিপত্যবাদ’ (হেজেমনিজম) কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে লি ছিয়াং বলেন, চীন বিশ্বজুড়ে ‘আধিপত্যবাদ এবং শক্তির রাজনীতি’-র বিরোধিতা করবে। চীনে ২০২৬ সালে যে অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা দেশটির ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং ঘোষণা করেছেন যে, ২০২৬ সালে চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪.৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ। ১৯৯১ সালের পর এটিই চীনের সর্বনিম্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা। মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ আবাসন খাতের সংকট সত্ত্বেও চীন গত বছর ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন। তবে চীনের প্রতিরক্ষা বাজেট আগের চেয়েও ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২৭ সালে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) শতবর্ষ পূর্তিকে সামনে রেখে সামরিক খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। বছর প্রতিরক্ষা খাতে ২৭৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে (৭ শতাংশ বৃদ্ধি)। প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির উদ্দেশ্য হচ্ছে, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি আরও জোরদার করা। এছাড়া সামরিক বাহিনীতে শি জিনপিংয়ের ‘একক নেতৃত্ব’ বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে তাদের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। বড় বড় শিল্প খাতে এআই-এর বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়ানো এবং নতুন প্রজন্মের ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনাল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘এক চীন নীতি’ এবং ‘১৯৯২ কনসেনসাস’-এর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার যে কোনো প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে দমনের অঙ্গীকার করা হয়েছে।