
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এ কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প পথ খুঁজে নিয়েছে ভারত।
সরকারি সূত্রের দাবি, এখন প্রায় ৪০টি দেশ থেকে ঘুরপথে জ্বালানি আমদানি শুরু করেছে নয়াদিল্লি। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হলেও ভারতে তেমন পরিস্থিতি তৈরি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে সরকার আগেভাগেই বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছে। সর্বভারতীয় গণমাধ্যম সংস্থা সূত্রে তার বক্তব্যে বলা হয়েছে, ভারত এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা কমেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় ইজরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এর পর থেকেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু করে তেহরান। ইরান ঘোষণা দেয় হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে যেসব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করবে তাদের ওপর হামলা চালানো হতে পারে। এই হুঁশিয়ারির পর থেকেই ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যায়। অনেক দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালীর আশপাশে আটকে থাকে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এই পথ দিয়েই হয়। ভারতের ক্ষেত্রেও এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট জ্বালানি আমদানির বড় একটি অংশ সাধারণত এই সমুদ্রপথ ব্যবহার করেই আসে।এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে সংকট এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় ভারত সরকার। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৪০টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করছে ভারত। আগে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭টি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। ভারত এখন বিভিন্ন ঘুরপথ ব্যবহার করে জ্বালানি দেশে নিয়ে আসছে। এর ফলে সরাসরি হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়েছে।