
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ভবিষ্যতে দিল্লি কোনো ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপ’ নিলে কলকাতায় হামলার মাধ্যমে ভারতকে জবাব দেওয়া হতে পারে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কড়া সতর্কবার্তার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে খাজা আসিফ বলেন, ‘ভারত যদি এবার কোনো ফলস ফ্ল্যাগ অভিযান চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে আল্লাহ চাইলে আমরা সেটিকে কলকাতা পর্যন্ত নিয়ে যাব।’ এই মন্তব্যটি এসেছে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল সংঘটিত পাহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকীকে সামনে রেখে। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিল। পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও দাবি করেন, সম্ভাব্য কোনো ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযানে নিজেদের লোকজন বা আটক পাকিস্তানিদের ব্যবহার করা হতে পারে এবং পরে সেটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে দায় চাপানো হতে পারে। এর আগে চলতি সপ্তাহেও খাজা আসিফ ভারতকে হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধের কোনো সুযোগ আছে- এ ধারণা অবাস্তব।’ তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ এবং যেকোনো পদক্ষেপের জবাব হবে ‘দ্রুত, পরিকল্পিত ও দৃঢ়’। এদিকে, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং কেরালায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান কোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিলে তা নজিরবিহীন ও কঠোর জবাবের মুখে পড়বে।’ তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের পাহেলগাম হামলার পর ভারতের সেনাবাহিনী পাকিস্তানের ভেতরে ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে একাধিক সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করেছে। ‘অপারেশন সিনদুর’-এর মাধ্যমে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যে পাকিস্তানকে চাপে ফেলা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজনাথ সিং আরও বলেন, ‘অভিযান এখনো শেষ হয়নি। পাকিস্তান যদি আবার এমন নোংরা কাজ করে, তাহলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এমন জবাব দেবে যা তারা কখনো ভুলবে না। এবার যা হবে, তা হবে নজিরবিহীন।’ ভারতের দাবি, ‘অপারেশন সিনদুর’-এ অন্তত নয়টি সন্ত্রাসী শিবির ধ্বংস করা হয়েছে এবং পাকিস্তানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে। পরবর্তীতে ১০ মে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালে উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করে।