
অবরুদ্ধ গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার একাধিক নৌকায় হানা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা।
ড্রোন ব্যবহার করে, যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়ে, সশস্ত্র সেনাদল পাঠিয়ে ভূমধ্যসাগরে এ নৌযানগুলোতে হানা দেওয়া হয় বলে ফ্লোটিলার আয়োজক ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে আল জাজিরা। ৪০০ মানবাধিকারকর্মী ও বহু দেশ থেকে ত্রাণ নিয়ে যাওয়া এ বহরের গন্তব্য ছিল গাজা ভূখণ্ড, যেখানে ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ এরই মধ্যে ৭২ হাজার ৫০০-র বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। ইসরায়েল ২০০৭ সাল থেকেই গাজাকে ঘিরে কড়া নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে।
‘নিজেদেরকে ‘ইসরায়েলের’ দাবি করে একাধিক সামরিক স্পিডবোট আমাদের নৌকাগুলোর দিকে এগিয়ে আসে, লেজার এবং আধা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র তাক করে, ত্রাণযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের নৌকার সামনের দিকে এগিয়ে আসতে বলে এবং হাঁটু গেড়ে হাত সামনে রাখতে বলে,” বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এমনটাই বলেছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। ‘ইসরায়েলি এ সামরিক নৌযানগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবৈধভাবে ফ্লোটিলাকে ঘিরে ধরে এবং অপহরণ ও সহিংসতার হুমকি দেয়। ১১টি নৌযানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যম বলছে ৭টি নৌকাকে আটক করা হয়েছে,’ বলেছে তারা। ইসরায়েলি এক সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সেনা রেডিও তাদের খবরে ফ্লোটিলার ৫৮টি নৌযানের ৭টিকে গ্রীক দ্বীপ ক্রিটের কাছ থেকে আটক করা হয়েছে।
গাজা থেকে আনুমানিক ৬০০ নটিক্যাল মাইল (এক হাজার ১১১ কিলোমিটার) দূরে এ নৌকাগুলোকে আটক করা হয়। এর আগে ইসরায়েলের রেকর্ড ছিল সর্বোচ্চ ৭২ নটিক্যাল মাইল দূরে নৌযান আটক। জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ফ্লোটিলা ‘আমাদের এলাকায় পৌঁছানোর আগেই থামানো’ হয়েছে এবং ইসরায়েলি সেনারা ‘এক দল বিভ্রান্ত ও নজর-প্রত্যাশী অশান্তি সৃষ্টিকারীদের মোকাবেলা করেছে’। এদিকে ফ্লোটিলার এক মুখপাত্র গুর জাবার ইসরায়েলি বাহিনীর এ অভিযানকে ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরস্ত্র বেসামরিক নৌকায় সোজাসাপ্টা হামলা’ আখ্যা দিয়েছেন। কানাডা থেকে আল জাজিরাকে তিনি বলেছেন, ‘এটি (অভিযান) আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। ওই জলসীমায় ইসরায়েলের কোনো এখতিয়ার নেই। এ নৌকাগুলোতে চড়া মানেই তা অবৈধভাবে আটক হিসেবে গণ্য হবে, খোলা সমুদ্রে এগুলো সম্ভাব্য অপহরণ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।’
আটক নৌকাগুলোর একটিতে থাকা অধিকারকর্মী তারিক রাউফ জানান, ইসরায়েলি বাহিনী নৌকাগুলোর বহরকে ঘিরে ধরে, শক্ত রাবারের নৌকা মোতায়েন করে এবং রেডিও চ্যানেলে গান বাজিয়ে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটায় যা ‘এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের কৌশল’।
গত বছরের অক্টোবরেও প্রায় একই ধরনের ঘটনায় ইসরায়েল একই ত্রাণবাহী বহরের প্রায় ৪০টি নৌকাকে জব্দ করে এবং সেসব নৌকা থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আইনপ্রণেতা রিমা হাসান, পরিবেশকর্মী গ্রেটা থ্যুনবার্গ, নেলসন ম্যান্ডেলার নাতিসহ সাড়ে চারশ’র বেশি লোককে আটক করে। ছেড়ে দেওয়ার আগে তাদের ওপর শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনও চালানো হয় বলে পরে একাধিক অধিকারকর্মী অভিযোগও আনেন।