ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নাইজারের বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ৩৫

নাইজারের বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ৩৫

নাইজারের দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একদল বন্দুকধারীর হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানী নিয়ামেতে দেশটির বৃহত্তম এই বিমানবন্দরে হামলা হয়। এই বিমানবন্দর সামরিক ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বিবিসি লিখেছে, পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এ বিমানবন্দর দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের হামলার শিকার হলো। আল-কায়েদার আঞ্চলিক শাখা ‘জামাত নুসরত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন’ (জেএনআইএম) বৃহস্পতিবারের হামলার দায় স্বীকার করে বার্তা পাঠিয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ওই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে বিবিসি লিখেছে, মুসলিমপ্রধান এই দেশটিতে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে ফজরের নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই বিমানবন্দর এলাকা শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও মুহুর্মুহু গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে। হামলার ধাক্কা সামলে ওঠার পর নাইজার প্রতিরক্ষা বাহিনী পুরো এলাকা অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

অভিযানে আরও চার হামলাকারী আহত হয়েছেন এবং সন্দেহভাজন ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ আরপিজি-৭ রকেট লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, গ্রেনেড, বিস্ফোরক ও হাজার হাজার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দারাও লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলাকারীদের ধরতে অভিযানে অংশ নেন। এক বাসিন্দা জানান, হামলাকারীরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করায় তাদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

বিগত সপ্তাহগুলোতে ‘সন্ত্রাসী ঝুঁকির’ কথা জানিয়ে বিমানবন্দর সংলগ্ন বেশ কয়েকটি আবাসিক এলাকা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল নাইজার কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচীর আরও সম্প্রসারণ করার পাশাপাশি সেখানে ৩৫০টির বেশি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এত নিরাপত্তার পরও এই রক্তক্ষয়ী হামলা এড়ানো যায়নি। দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি নাইজারের অন্যতম প্রধান নিরাপত্তা স্থাপনা। এটি যেমন বেসামরিক বিমান চলাচলের প্রধান হাব, তেমনই দেশের একটি বড় সামরিক ঘাঁটি। এছাড়া এটি নাইজার, মালি ও বুর্কিনা ফাসোর সামরিক জান্তা সমর্থিত জোট ‘অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস’ (এইএস)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এর আগে জানুয়ারি মাসে এই বিমানবন্দরে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী হামলা চালিয়েছিল। সে সময় নাইজারের জান্তা প্রধান আবদুরাহমানে তিয়ানি ওই হামলা নস্যাৎ করতে রাশিয়ার সামরিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারপারসন মাহমুদ আলী ইউসুফ এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সাহসিকতার সঙ্গে হামলা প্রতিহত এবং বিমানবন্দরটি সুরক্ষিত করার জন্য নাইজারের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত