
হেলিকপ্টার আমদানিতে আরোপিত অতিরিক্ত কর প্রত্যাহার করে আগের মতো ১০ শতাংশ বহাল রাখার প্রস্তাব দিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। এয়ারলাইন, হেলিকপ্টার ও ফ্লাইং স্কুলগুলোর এই সংগঠনটি মনে করে, বর্তমান উচ্চ কর হার দেশের এভিয়েশন খাতের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই দাবি তোলা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উচ্চ করের প্রভাবে থমকে আছে আমদানি : সভায় এওএবি-র মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, আগে হেলিকপ্টার আমদানিতে সর্বসাকুল্যে মাত্র ১০ শতাংশ কর ছিল। কিন্তু গত অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৩৭.২৫ শতাংশ করা হয়েছে। আমাদের দেশে বছরে বড়জোর একটি বা দুটি হেলিকপ্টার আমদানি হয়। ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি হেলিকপ্টারের ওপর যখন এত বিশাল পরিমাণ ট্যাক্স আসে, তখন কেউই তা কিনতে আগ্রহী হয় না। তিনি এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে ট্যাক্স আগের অবস্থায় (১০ শতাংশ) ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এতে হেলিকপ্টারের সংখ্যা বাড়লে সরকারের অন্যান্য খাত থেকে রাজস্ব আয় আরও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে ৩৭.২৫ শতাংশ করের মধ্যে কাস্টমস ডিউটি (সিডি) ৫ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ৫ শতাংশ এবং অগ্রিম কর (এটি) ৫ শতাংশসহ অন্যান্য চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যানের বক্তব্য : ব্যবসায়ীদের এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, কাস্টমস ডিউটি ৫ শতাংশের নিচে নামানো মানেই তা শূন্য করে দেওয়া। এছাড়া ভ্যাট ও এআইটির ক্ষেত্রে আপনারা রিফান্ড বা ক্রেডিট সুবিধা পান। তবে, আমরা অগ্রিম আয়করের (এআইটি) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পারি। সার্বিক বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।