
কার্টুন ‘শেয়ার’ করায় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই আলোচনায় তিনি অভিযোগ তুলেছেন, সংসদে মৌখিক প্রশ্নোত্তর পর্ব ‘কমে যাওয়ায়’ মন্ত্রীদের জবাবদিহি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জবাবে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, শুধু তাকে নিয়ে কার্টুন আঁকার কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকলে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ তিনি করছেন। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি যদি ‘সাইবার অপপ্রচার, মানহানি বা কুরুচিপূর্ণ প্রচারণার’ সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে বিষয়টি সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল রোববার ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব, সদস্যদের অধিকার এবং সাইবার আইনে মামলা নিয়ে আলোচনায় বিষয়টি ওঠে।
হাসনাত আবদুল্লাহ কার্যপ্রণালী বিধির ১৬৩ ধারা তুলে ধরে ‘প্রিভিলেজের প্রশ্ন’ তোলেন। তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহের অধিবেশনে তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন কার্যসূচিতে থাকলেও সেগুলো শুধু টেবিলে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ফলে সদস্যরা মন্ত্রীদের সম্পূরক প্রশ্ন করতে পারছেন না।
তিনি বলেন, কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য, যদি আমরা মন্ত্রীদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই না পারি, তাহলে আমরা কোথায় কথা বলব? আমাদের কথা বলার জায়গা একেবারেই সীমিত। ‘আমি মনে করি এর মাধ্যমে আমার অধিকার বঞ্চিত হচ্ছি এবং আমি সম্পূরক প্রশ্ন করতে পারি না। একই ধরনের অভিযোগ তোলেন নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন। তিনি বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন সেদিন তালিকায় থাকলেও তা উত্থাপনের সুযোগ হয়নি। আজকে যে তারকা প্রশ্ন তিন নম্বরে ছিল, সেটা যদি উত্থাপিত হত, যদি মাননীয় মন্ত্রী উত্তর দিতেন বা আমি যদি একটা প্রশ্ন করতে পারতাম, তাহলে সমস্যাগুলো আরও পরিষ্কারভাবে তোলা যেত।’
মাহবুব উদ্দিন বলেন, প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ না পেলে জনগণের সমস্যাও সরাসরি তোলা যায় না, আবার সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট হয় না। ওই প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আব্দুল্লাহ সাম্প্রতিক একটি গ্রেপ্তারের ঘটনার কথা তোলেন। তিনি বলেন, আমরা কল্পনাও করতে পারিনি যে নির্বাচনের পরে কার্টুন শেয়ার দেওয়ার জন্য হাসান নাসিমকে গ্রেপ্তার করা হবে।