ঢাকা বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জামায়াতের নীতিগত অবস্থান সংসদে এক পরিবারের দুজন সদস্য নয়

জানালেন হামিদুর রহমান আযাদ
জামায়াতের নীতিগত অবস্থান সংসদে এক পরিবারের দুজন সদস্য নয়

জাতীয় সংসদে এক পরিবারের দুজন সংসদ সদস্য নয়- এমনটি জামায়াতে ইসলামীর নীতিগত অবস্থান বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়া শেষে ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ এ কথা বলেন। মনোনয়ন জমা দেওয়া শেষে সাংবাদিকরা হামিদুর রহমান আযাদের কাছে জানতে চান, সংরক্ষিত নারী আসনে অতীতে জামায়াতের আমিরের স্ত্রী সংসদ সদস্য থাকলেও এবার নেই কেন?

জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমাদের অন প্রিন্সিপাল- এক পরিবারে দুইজন সংসদ সদস্য নয়। অতীতেও আমরা সেটা অ্যালাউ করি নাই। এবারও এটা করা হয় নাই। এটা অন প্রিন্সিপাল আমাদের দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা করেছি।’

দেশ পরিচালনার মতো যোগ্য নারী জামায়াতের নারী শাখায় অনেক আছেন বলে মন্তব্য করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘দলে যোগ্য নারী নেতৃত্বের কোনো সংকট নেই। আমিরের স্ত্রী শুধু হেভিওয়েট নন, তার চেয়ে জামায়াত ইসলামীর ডজন ডজন হেভিওয়েট প্রার্থী আছে।’

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচন হয়ে গেছে, সংসদ চলছে। সময়মতো যদি সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যরা সংসদে যেতে পারেন, তাহলে জাতির প্রত্যাশা ও নারী প্রতিনিধিত্ব সঠিক সময়ে হবে। এ জন্য কমিশন যেন ভিন্ন পরিস্থিতির অবতারণা না করে, ১১ দল সেই আস্থা রাখতে চায়।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদে সব ন্যায়সম্মত ও জনকল্যাণকর কাজে, দেশের স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বিরোধী দল। এটাই বিরোধী দলের মূল নীতি। আর সরকার ভুল পথে পরিচালিত হলে, জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিলে সে ক্ষেত্রে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সোচ্চার থাকবেন। তারা তাদের ভূমিকা পালন করবেন। সংরক্ষিত নারী আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরাও এ ক্ষেত্রে যুক্ত হবেন। ৯০ জন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য একসঙ্গে ভূমিকা পালন করবেন।

বিরোধী ১১-দলীয় ঐক্য ১৩টি নারী আসন পাচ্ছে। জোট থেকে মনোনয়ন দেওয়া ১৩ নারী প্রার্থীর মধ্যে একজন সরকারি চাকরিতে ছিলেন। সেটি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে কি না- এমন প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তার কাছে এ রকম তথ্য নেই। এ রকম সমস্যা থাকলে তার দলের (এনসিপি) পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা নয়। দলের মনোনয়নের ওপর ভিত্তি করেই জোটের পক্ষ থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মাহমুদা আলম মিতু তার বক্তব্যের শুরুতে দলের আহ্বায়কসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ঠিক রাখায় তিনি জামায়াতে ইসলামীকেও ধন্যবাদ দেন।

রাজনৈতিক জোট মানে একটা অঙ্গীকার বলে মন্তব্য করেন মাহমুদা আলম। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ১১ দল একসঙ্গে কাজ করবে, এই অঙ্গীকার শুরু থেকেই ছিল। অনেক বড় বড় দল আছে, তারাও জোট করেছে, কিন্তু তারা রাজনৈতিক অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারেনি। অনেক আসন থাকার পরও তারা জোটসঙ্গীদের সেভাবে সম্মান করেনি।

মাহমুদা আলম বলেন, তারা আজ এই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন শুধু জুলাইয়ের কারণে। জামায়াতসহ জোটের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হয় যে একজন জুলাই শহীদের পরিবারের সদস্য সংরক্ষিত আসনে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন। সেখান থেকে তাদের সঙ্গে শহীদ পরিবারের একজন প্রতিনিধি আছেন। তিনি একজন মা। তিনি শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা রোকেয়া বেগম। এটাও অনেক বড় একটা বিষয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত