
ওমানের সোহার শহরে নিখোঁজের ৪ দিন পর এক বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মিজান মোহাম্মদের (৩০) বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বিপি দাউদপুর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার আবদুল জব্বারের ছোট ছেলে।
গত সোমবার সকালে সোহারের লুলু হাইপারমার্কেটের পার্কিং এলাকায় একটি তালাবদ্ধ গাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে রয়েল ওমান পুলিশ। মিজানের বন্ধু আরেক প্রবাসী মোহাম্মদ রবিউল জানান, সোহার শহরে মিজানের আইসক্রিম পার্লারসহ একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে কন্টেন্ট তৈরির জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে পরিচিত ছিলেন।
গত শুক্রবার দুপুরে দোকানের মালামাল কেনার কথা বলে বাসা থেকে বের হন মিজান। তারপর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর বাসায় ফেরেননি। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকায় তার সহকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে সন্ধান চালিয়েও কোনো হদিস পাননি।
গত সোমবার সকালে লুলু হাইপারমার্কেটের পার্কিং লটে একটি বন্ধ গাড়ির ভেতরে লাশ দেখতে পান স্থানীয় এক ওমানি নাগরিক। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করে। পরে জানা যায়, এটি নিখোঁজ মিজানের লাশ। দীর্ঘ সময় গাড়িতে থাকায় লাশটিতে পচন ধরেছিল।
পুলিশি প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, দীর্ঘক্ষণ বন্ধ গাড়িতে এসি চালিয়ে অবস্থান করার ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস বা কারিগরি কোনো ত্রুটির কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সোহার হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রবাসী মোহাম্মদ রবিউল জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই মিজান শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। কয়েক মাস আগে তিনি তার একমাত্র শিশুসন্তানকে হারান।