
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে কিছুটা অধিনায়কত্ব করেছেন হৃদয়। পাঁচ বছর আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে নেতৃত্ব দিয়েছে ১১ ম্যাচে।
এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মতো ঐতিহ্যবাহী ও তারকাবহুল দলকে। তবে জাতীয় দলের জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক হওয়া মানে বলা যায়, তার নেতৃত্বগুণের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। সেই স্বীকৃতিটি পেয়েছিলেন সাইফও। গত নভেম্বরে যখন তাকে টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়, কিছুটা বিস্ময়েরই জন্ম দিয়েছিল তা। টি-টোয়েন্টি দলে ফেরার পর স্রেফ ১৩টি ম্যাচ খেলেছিলেন তখনও পর্যন্ত।
এমনিতে এই দায়িত্বের ভার খুব বেশি নয়। তবে সাইফ আপাতত তা বইতে পারছেন না। বেশ কিছুদিন ধরেই তার ব্যাটিং ফর্ম ভালো নয় কোনো সংস্করণেই। সহ-অধিনায়ক হওয়ার পর টি-টোয়েন্টিতে ৫ ম্যাচের কোনোটিতেই ২৫ রান ছুঁতে পারেননি। পরে বিপিএলটাও কেটেছে যাচ্ছেতাই। ৯ ম্যাচে ফিফটি করেছেন মোটে ১টি। এই অবস্থায় নেতৃত্বকে বোঝা বলেই মনে হচ্ছে তার।
সংবাদ সম্মেলনটি ছিল স্কোয়াড ঘোষণার। সেখানে এলো নেতৃত্ব বদলের ঘোষণাও। না, অধিনায়কত্বে বদল আসেনি। তবে কিছুটা চমক হয়েই আসে সহ-অধিনায়কত্বে পরিবর্তন। সাইফ হাসান সরে যেতে চেয়েছেন নিজে থেকেই, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক এখন তাওহিদ হৃদয়। তাকে বেছে নেওয়ার কারণ, তার মধ্যে সম্ভাব্য এক নেতাকে দেখছে বিসিবি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানালেন, দায়িত্বটি আর চালিয়ে যেতে চাইছেন না সাইফ। ‘টি-টোয়েন্টি দলের নিয়মিত সহ-অধিনায়ক সাইফ হাসান আমাদের কাছে এসেছেন।
তিনি এখান থেকে অব্যাহতি চান। তিনি চান শুধু ব্যাটিংয়ে বেশি মনোযোগ দিতে। টি-টোয়েন্টির সহ-অধিনায়কত্বটা তিনি করতে চাচ্ছেন না। ক্রিকেট বোর্ড একটা ঘোষণা দিয়েছে। এখন থেকে তাওহিদ হৃদয় টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক।’
হৃদয়ের নেতৃত্বে এবারের ঢাকা লিগে ৯ ম্যাচের ৮টিতে জিতেছে মোহামেডান। ৯ ম্যাচে ৮৮ গড় ও ১২২ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৫২৮ রান। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। এই পারফরম্যান্স বলে দিচ্ছে, দায়িত্বের ওজন তাকে কাবু করেনি। গত মৌসুমেও কয়েকটি ম্যাচে তিনি ছিলেন এই দলেরই অধিনায়ক। ঢাকা লিগে হৃদয়ের নেতৃত্ব নজর কেড়েছে হাবিবুলের। ২৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের মাঝে বোর্ডও ভবিষ্যৎ অধিনায়কের ছবিই দেখছে বলে জানালেন প্রধান নির্বাচক। ‘এই মৌসুমে তাকে দেখেছি ঢাকা লিগে অধিনায়কত্ব করতে। পুরো টুর্নামেন্টে আসলেই মুগ্ধ করেছে। অধিনায়ক হিসেবে যে ধরনের রোল মডেল আমরা চাই, আমার মনে সব বক্সে টিক মার্ক দিয়েছেন। ভবিষ্যত পরে বলে দেবে। কিন্তু এই মুহূর্তে সে সম্ভাব্য সেরা সহ-অধিনায়ক। অধিনায়ক হিসেবে তাকেই বোর্ড বিবেচনা করছে।’