ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

মাদকাসক্তি কোনো অপরাধ বা ইচ্ছাশক্তির অভাব নয়; এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ এবং একই সঙ্গে একটি পারিবারিক ব্যাধি। তাই একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাকে স্বাভাবিক জীবনে ধরে রাখতে পরিবারের সক্রিয় সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এক পারিবারিক সভায় এসব কথা বলা হয়। সভায় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ক্লায়েন্টদের অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন লিভিং উইথ ওয়েলনেস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং লিড সাইকোলজিস্ট মিস মাহমুদা। তিনি বলেন, ‘নিরাময় কেন্দ্র থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর একজন ব্যক্তির পুনরায় মাদকে আসক্ত হওয়ার বা রিল্যাপসের ঝুঁকি অনেকাংশে নির্ভর করে তার পারিবারিক পরিবেশের ওপর। তাই সুস্থতার পথে থাকা ব্যক্তির ওপর কোনো ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি না করে পরিবারের সদস্যদের সহমর্মিতার সঙ্গে পাশে থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা-পরবর্তী সময়ে রোগীকে অতীতের ভুলের জন্য দোষারোপ করা, অতিরিক্ত সন্দেহ করা কিংবা নেতিবাচক আচরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বরং তাকে একটি নিরাপদ, চাপমুক্ত ও মাদকমুক্ত পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা বজায় রাখতে রোগীকে ইতিবাচক জীবনধারায় সম্পৃক্ত করা এবং কাউন্সেলর ও সাইকোলজিস্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও ফলো-আপ বজায় রাখাও জরুরি। সভায় বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি এবং চ্যালেঞ্জপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি পরিবারের সমর্থন একজন ব্যক্তির সুস্থতা ধরে রাখার অন্যতম প্রধান উপাদান। বিশেষ করে নারী মাদকাসক্তদের ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক মনোভাব তাদের আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখী গাঙ্গুলী, কেন্দ্র ব্যবস্থাপক লায়লা ইয়াসমিন, কেস ম্যানেজার আফসানা খাতুন এবং কেন্দ্রের কাউন্সেলরবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে মাদকমুক্ত করতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি পরিবারকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবারের সচেতনতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং দায়িত্বশীল আচরণই একজন ব্যক্তিকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে রাখতে সহায়তা করতে পারে। সূত্র : সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত