
দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশ একটি সত্যিকারের কার্যকর সংসদ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ আরও মহিমান্বিত হবে এবং এর প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অতীতের সংসদ নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্পিকার বলেন, আমি বেশ কয়েকটি সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলের সংসদের সদস্য ছিলাম—এ কথা বলতে আজও লজ্জা লাগে। টেলিভিশন ও রেডিওতে শুনতাম একজন নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু দুদিন পর সংসদে এসে দেখতাম অন্য একজন।
নানা অনিয়মের মাধ্যমে তখন অনেকেই সংসদ সদস্য হয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন এমন সংসদ দেখার পর এবার আমরা একটি প্রকৃত সংসদ পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সালে একটি ভালো সংসদ দেখেছিলাম, আর এখনকার সংসদও তেমন। এবার অত্যন্ত অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হয়েছে। সাধারণ মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায় বলেই অনেকে নিজ যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। জনগণের সেবা করাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সংসদকে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিক ও সংসদ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি করে।
চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ফল উৎসবের মতো আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে। সংসদকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে সাংবাদিকদের সব ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বিপিজেএ সভাপতি হারুন জামিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথো।
অনুষ্ঠানে সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিএনপি ও জামায়াতের সংসদ সদস্যরা, জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।