
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের লাঠিটিলা বিওপির কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে বিজিবির দাবি, গত বৃহস্পতিবার সকালে পুশইন করা ওই ১০ জনকে একই দিন রাতে অন্য একটি সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে পুশব্যাক করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্ত এলাকায় ১০ জনকে দেখতে পেয়ে তারা বিষয়টি ৫২ বিজিবি বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ লাঠিটিলা বিওপিতে জানায়। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে একটি বাড়িতে রাখেন।
এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের জন্য লাঠিটিলা বিওপিতে যান। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে তাদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।
এ সময় দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর জুড়ী প্রতিনিধি ও পরিবেশকর্মী খোর্শেদ আলম তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তার ছোট ভাই তাওহিদ আলম ও তার বন্ধু সাব্বির রহমানকে লাঠিটিলা বিওপির বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে শুক্রবার তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
খোর্শেদ আলম বলেন, ‘পুশইনের ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে বিজিবি ক্যাম্পে গেলে আমাকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বরং আমাকে হেনস্তা করা হয়। আমার ভাই তাওহিদ আলম ও তার বন্ধু সাব্বির রহমানকে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।’
এদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পুশইন হওয়া ১০ জনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নারীরা কান্নাকাটি করছেন এবং তাদের ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন।
পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের দাবি, তারা ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে জীবিকার সন্ধানে ভারতের গুজরাটের বিভিন্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে বাংলাদেশ সীমান্তে এনে পুশইন করে।
পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- রিয়াদুল মোল্লা (৫৫), সাব্বির শেখ (১৯), ফরিদা বেগম (৪০), লাবিবা খাতুন (৮), সুবা (৩২), দিলরুবা (৩৮), রিতা বেগম (৪০), রিয়া বেগম (২৫), লাইলি খাতুন (২৮) ও সালমা খাতুন (২৭)।
বিজিবির ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান বলেন, ‘স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুশইন হওয়া ১০ জনকে আটক করে বিজিবি। পরে তাদের নিয়ে গিয়ে রাতে অন্য একটি সীমান্ত দিয়ে পুশব্যাক করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজিবি পুশইনের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। স্থানীয় কিছু মানুষ পুশইনের ক্ষেত্রে বিএসএফকে সহযোগিতা করছে- এমন গোয়েন্দা তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’