
বরিশালে আবাসন খাতের এক ব্যবসায়ীর শরীরের ‘স্পর্শকাতর স্থান’ চেপে ধরে চেক-স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।
রাজধানীর সোনারগাঁও রোডে ন্যাশনাল প্লাজায় রিহ্যাব বোর্ড রুমে রোববার সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা।
ভুক্তভোগী বরিশালের সেই ব্যবসায়ী বাকলা ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদার ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত ছিলেন।
রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজাল সেখানে বলেন, বরিশালে রিহ্যাব সদস্য আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন, সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেওয়া পদক্ষেপ রিহ্যাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। ভিডিওতে যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা শুধু একজন উদ্যোক্তার ওপর হামলাই নয়, বরং নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপরও আঘাত।’
গত ২৭ জুন বরিশালে আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অফিসে ঢুকে তার ‘স্পর্শকাতর স্থান’ চেপে ধরে চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ভিডিওতে দেখা যায়, আব্দুল আজিজ তার কক্ষে বসে ছিলেন। এ সময় চার ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করেন। তাকে মারধরের একপর্যায়ে নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাটপট্রি রোডের শাহজাহান খানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ওই ব্যবসায়ীর ‘স্পর্শকাতর স্থান’ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে সই নেন। এ ঘটনায় মামলার পর লিটুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজাল বলছেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দ্রুত জামিনের চেষ্টা এবং ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
মামলার বিচার চলার সময়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিও তুলে ধরেন আলী আফজাল।
তিনি বলেন, ‘রিহ্যাব কোনো ঘটনাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে না। কেউ কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সেটি বিবেচ্য নয়। অপরাধ করলে তার পরিচয় নয়, কর্মকাণ্ডই বিচার্য হওয়া উচিত। একইভাবে কোনো ডেভেলপার অন্যায় করলেও তার বিরুদ্ধেও আইনের মাধ্যমেই ব্যবস্থা নিতে হবে, জোরজবরদস্তির মাধ্যমে নয়।’ সংবাদ সম্মেলনে চারটি দাবি তুলে ধরা হয়। ঘটনার নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা। অভিযোগ প্রমাণ হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সহ-সভাপতি এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ, পরিচালক শেখ কামাল, হাবিবুর রহমান হাবিব, সোহেল, রিহ্যাব সদস্য সুলতান আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।