ঢাকা শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পাহাড়ি অঞ্চলে তৃতীয় ধাপে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা

পাহাড়ি অঞ্চলে তৃতীয় ধাপে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা

রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে তৃতীয় ধাপে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা করছে সরকার। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব নয়। পাঁচ বছর মেয়াদে ২০২৬-২০৩১ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এই তিন পার্বত্য জেলার দুর্গম এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ ত্বরান্বিত করা যাচ্ছে না, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একইসঙ্গে আর্থ-সামজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পিছিয়ে পড়ছে এই অঞ্চল। ফলে, নতুন করে প্রকল্পের কাজ শুরু করা যেতে পারে। তবে, প্রকল্পটি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় নাকি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে, সেটি চূড়ান্ত হয়নি।

এ বছরের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগ সম্পর্কিত বিষয়াবলিতেও পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক প্রস্তাব করেন, পার্বত্য অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে। পরে এটির বাস্তবসম্মত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তবতা রয়েছে কি না, তা বিবেচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। প্রস্তাবের পক্ষে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক যুক্তি তুলে ধরে বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় কৃষি উৎপাদনে পিছিয়ে রয়েছে এই অঞ্চল। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন না থাকায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার। সরকারি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত বা বরাদ্দহীন প্রকল্প হিসেবে প্রকল্পটি বর্তমানে স্থান পেয়েছে। এসব নতুন প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোকে ‘সবুজ পাতা প্রকল্প’ বলা হয়। এটি ভবিষ্যৎ কাজের নীতিগত সম্মতি বা প্রাথমিক তালিকা, যা পরে অনুমোদন পেলে মূল কার্যক্রম বা ডিপিপিতে স্থান পায়। তিনি বলেন, যদি প্রকল্পটি ডিপিপিতে স্থান পায়, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থাৎ ৫ বছর মেয়াদে প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে। এটি ২০২৬ এ শুরু হয়ে শেষ হবে ২০৩১ সালে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি বিভাগ যেমন পার্বত্য অঞ্চলে শতভাগ বিদ্যুতায়নের প্রস্তাবনা দিয়েছে, একইভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনকে অবহিত করেছে।

এদিকে জ্বালানি সংক্রান্ত বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ২৬ জুলাই চা চাষে অনুপযোগী বাগানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নে প্রকাশিত বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের জুন মাসে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে, দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ হলেও দুর্গম অঞ্চলে এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, বিস্তীর্ণ বনভূমি এবং দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে জাতীয় গ্রিড সম্প্রসারণ অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে এসব এলাকায় অফ-গ্রিড সোলার ফটোভোল্টাইক সিস্টেমই বিদ্যুৎ সরবরাহের সবচেয়ে কার্যকর, বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০০৮ ও পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্ল্যান ২০১৬-এর আলোকে এবং পূর্ববর্তী প্রকল্পের ইতিবাচক ফলাফল ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের সুপারিশের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করতে ‘সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রকল্পটি ২১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে বাস্তবায়িত হয়েছে।

মাঠ পর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, প্রকল্পটি উপকারভোগীদের জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত