
ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে গত বছর জুলাইয়ে ব্যবসায়ী মো. সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে কংক্রিট বোল্ডার দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।
গতকাল সোমবার ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আলমগীর হোসেনের আদালতে মামলার বাদী সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম সাক্ষ্য দেন।
জবানবন্দিতে মঞ্জুয়ারা বলেন, “২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আমার ভাই সোহাগকে হত্যা করা হয়। মাহিন, টিটু, লম্বা মনির, ছোট মনির, সজিব, রাজীব, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, আলমগীর, অপু দাস, অভি, টিটন গাজী, রবিনসহ আরো অনেকে হত্যা করেছে। ইট, পাথর, লাঠিসোটা দিয়ে আমার ভাইকে মারধর করে। আমার ভাই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার ডান কান কেটে ফেলে, বাম চক্ষু উপরে ফেলে। মাথা পাথর দিয়ে থেঁতলে জখম করে। হাত দুটো ভেঙে ফেলে। দেখে আমার ভাই, মারা গেছে কি না। পরে লাশের উপর উঠে উল্লাস করে।”
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “তারপর তারা স্লোগান করে। লাশ ফেলে চলে যায়। আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে যাওয়ার পর লোকমুখে, দোকানের স্টাফ, দোকানের আশপাশের লোকের কাছে শুনি, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মামলা করি।”
এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মঞ্জুয়ারাকে জেরা করেন। তারা দাবি করেন, মঞ্জুয়ারা ঘটনা না দেখে, আসামিদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা না পেয়ে এ মামলা করেছেন। উত্তরে মঞ্জুয়ারা বলেন, “এটা মিথ্যা”।
তার সাক্ষ্য শেষে আগামী ১৩ অগাস্ট আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন বলে তথ্য দেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিল্লাল হোসেন।
ব্যবসায়ী লাল চাঁদ হত্যা মামলায় গত ১২ জুলাই ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় একই আদালত। আসামিরা হলেন- মাহমুদ হাসান মহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজিব ওরফে সজিব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির, অপু দাস।
এদের মধ্যে ১০ জন কারাগারে ও ৮ জন পলাতক। জামিনে আছেন তিন আসামি।
এই মামলায় গত ১৯ জুলাই ছিল প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের দিন। ওইদিন মাহমুদুল হাসান মাহিন নামে এক আসামি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরকে আদালতের প্রতি অনাস্থার কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে যান মাহিন।
তবে গত ২৭ জুলাই মহানগর দায়রা জজ আদেশ দেন, ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতেই মামলার বিচার চলবে।
২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকেলে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে প্রকাশ্যে কংক্রিট বোল্ডার দিয়ে শরীর ও মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয় ভাঙারি ও পুরনো তারের ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে। ওই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ডে যাদের অংশ নিতে দেখা গেছে এবং নেপথ্যে যাদের নাম আসছে, তারা সবাই পূর্ব পরিচিত। তাদের কয়েকজন সোহাগের ব্যবসার সহযোগীও ছিলেন একসময়। ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
এ ঘটনায় সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতয়ালী থানায় মামলা করেন। গত ৮ ডিসেম্বর ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক মনিরুজ্জামান। অবশ্য অভিযোগপত্রে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকার কথা স্বীকার করে মামলাটি ফের তদন্তের আবেদন করেন পরিদর্শক মনিরুজ্জামান।