
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠায়। বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিএফআইইউর পাঠানো ই-মেইল বার্তায় সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য, হিসাব খোলার ফরম (এওএফ), গ্রাহকের পরিচিতি-সংক্রান্ত তথ্য (কেওয়াইসি) এবং হিসাব বিবরণী (স্টেটমেন্ট) চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া তার নামে থাকা হিসাবগুলোর কেওয়াইসি ও হিসাব বিবরণীর সফটকপি পাঠাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিএফআইইউর পাঠানো এক্সেল ফাইলে তার হিসাবসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য এবং চিহ্নিত প্রতিটি হিসাবের সুদ আয় ও উৎসে কর (টিডিএস)-সংক্রান্ত তথ্য পূরণ করে পাঠাতে বলা হয়েছে।
লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য তলবের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালার সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে বলেও বিএফআইইউর ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিএফআইইউর একটি পরিপত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে তলব করা তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। দুর্বৃত্তরা তার কার্যালয়ে ঢুকে বিভিন্ন আসবাব ও জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির প্রথমে অভিযোগ করেন, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা চেয়েছিল। তবে পরে তিনি জানান, তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়নি। তার বক্তব্যের পরিবর্তন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ-উর রহমান বলেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি ও ভাইরাল জনপ্রিয়তা পাওয়া ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন বলে তিনি আশা করেন।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন গ্রেপ্তার : রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে অবৈধভাবে প্রবেশ করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলার আরেক আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে (৬৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকালে ঢাকা ডিবি গুলশান বিভাগের একটি দল রাজধানীর সেগুনাবাগিচায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তার মহিউদ্দিন চৌধুরী সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল। এ নিয়ে ওই ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। গত ২৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আবাসন প্রকল্প এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় একদল লোক। এ সময় তারা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০টি গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করে। সেখান থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় তারা। ওই রাতেই সালমান মুক্তাদির ভাঙচুর হওয়া তার স্টুডিও নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিলে দেশজুড়ে আলোচনা হয়।
মিরপুরে গভীর রাতে মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ- এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরের রাতে এ হামলার ঘটনা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। এ ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
এ হামলা-লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার অপর তিন আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছিদ্দিক আজাদের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই সুব্রত দেবনাথের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুণ অর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন মামুন (৩২), আসলাম (২৪) ও মুন্না (২৯)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এদিন আদালতে আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় বলা হয়, আনুমানিক ৫০ জন দুষ্কৃতকারী দলবদ্ধ হয়ে এ হামলা চালায়। এ ঘটনায় সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। হামলাকারী ব্যক্তিরা প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি কেব্ল, ক্যামেরা ও প্রফেশনাল মিডিয়া ইক্যুইপমেন্টসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।