ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড হওয়া ২ বাংলাদেশির একজন শ্রমিক অন্যজন ওমরাহযাত্রী

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড হওয়া ২ বাংলাদেশির একজন শ্রমিক অন্যজন ওমরাহযাত্রী

সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির একজন অভিবাসী শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন। তাদের একজনের বাড়ি বগুড়ায়, অন্যজনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তবে তাদের পরিচয় ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে এ বিষয়ে ঢাকাকে কিছু জানায়নি রিয়াদ।

গতকাল সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ বহনের জন্য ২০০টি ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আকাশপথে যোগাযোগ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ওই দুই বাংলাদেশির লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, নতুন ট্রলি যুক্ত হওয়ায় বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে। অনুষ্ঠানে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মক্কার একটি মসজিদে 'অনৈতিক কাজ' করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড গত বুধবার কার্যকর করা হয়েছে। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বসির ও সিথি আক্তার। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। পরে মামলাটি আদালতে পাঠানো হলে বিচারকেরা তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। গত বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই চিঠিতে দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দার কনস্যুলেটের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা জানান, দুই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার, বিচার কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় খবর প্রকাশের পর বিষয়টি মিশনের নজরে আসে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে ওই দুই ব্যক্তির নাম ছাড়া তাদের পরিচয় শনাক্ত করার মতো বিস্তারিত তথ্য ছিল না। তাদের পাসপোর্ট, আকামা ও নাগরিকত্বের তথ্যও পাওয়া যায়নি। এ কারণে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কনস্যুলেট।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরিয়াহ আইনের 'তাআজির' বিধানের আওতায় বিচারকের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষও রায় বহাল রাখেন। ওই দুই বাংলাদেশির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না, তারা আপিলের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না কিংবা কনস্যুলার সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত