
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আলোচিত বিদ্রোহী ও জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থিরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন তাদের জোটের প্রার্থিদের সমর্থনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদকে সমর্থন জানিয়ে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত ও দলের নির্দেশনার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের লক্ষ্যে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। জোটের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন বলেও জানান তিনি। এর আগে হাতিয়া উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত ১০ দলীয় জোটের এক সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হান্নান মাসউদকে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রিন্সিপাল আশরাফুল হক।
মঙ্গলবার ইসি তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন তিনি।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং আসনগুলোর প্রার্থী তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে।
মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন এনসিপির ডা. মাহমুদা মিতু : জামায়াত জোটের প্রার্থীকে সমর্থন নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসন থেনে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু। গতকাল মঙ্গলবার, নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি।
ডা. মাহমুদা মিতু লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহার করলাম। আমার জীবনের প্রথম ভোট ইনশাআল্লাহ দাঁড়িপাল্লায় হবে। কাঠালিয়া রাজাপুর আসনে যারা আমাকে ভালোবাসেন আমার পাশে থাকতে চেয়েছেন, তাদেরকে আমার ভাই ফয়জুল হক ভাইয়ের পাশে থাকার দাবি রইলো।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমি ইনশাআল্লাহ গনভোটে হ্যাঁ এবং দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় ঝালকাঠি-১-এ থাকব। আপনারা যারা আমার সাথে প্রচারণায় থাকতে চেয়েছিলেন, আমাকে ভাত খাওয়াতে চেয়েছিলেন—সে সুযোগ এখনো আছে। আমি ইনশাআল্লাহ পুরো সময় মাঠে থাকবো। ঝালকাঠির-১ আসনের গণমানুষের ভোট, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে হোক।’
বাগেরহাটের ৪টি আসনেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ৬ : বাগেরহাটের ৪টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৩টি আসন থেকে মোট ৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এদের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট) আসন থেকে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মো. মমিনুল হক।
বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর ও কচুয়া) আসন থেকে তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী রমিজ উদ্দিন, খেলাফত মজলিস বাংলাদেশের প্রার্থী বালী নাসের ইকবাল এবং বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম।
বাগেরহাট-৩ (রামপাল ও মোংলা) আসন থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. জুলফিকার হোসেন ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) প্রার্থী মো. রহমাতুল্লাহ। বিদ্রোহীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের সব কটিতেই বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। বাগেরহাটের ভোটের মাঠে এখন ২৩ জন প্রার্থী রয়েছেন।
বাগেরহাট জেলা নির্বাচর কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু আনছান গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কুমিল্লায় বিএনপির বিদ্রোহী ইয়াছিনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার : বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন নির্বাচন থেকে সরে সরে দাঁড়ালেন। তিনি দলীয় প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে তার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
গত সোমবার কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পাড়স্থ বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এ সময় কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির দলীয় প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইয়াছিন বলেন, আমি দল করি ৩৪ বছর হয়েছে। গত ১৫ জানুয়ারি দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে গুলশান কার্যালয়ের দেখা করতে যাই। তখন তিনি বললেন আগামী নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং। এই ক্ষেত্রে তিনি আমার কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে সমন্বয়ক হিসেবে আমাকে দায়িত্ব প্রদান করেন।
তিনি বলেন, আমি দল করি দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য, দলের আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য, দেশ এবং জাতির কাছে পৌছে দেওয়ার জন্য। তারেক রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দায়িত্ববোধ থেকেই আমি আমার স্বতন্ত্র নির্বাচনী মনোনয়ন দাখিল করেছিল তা আজ প্রত্যাহার করেছি।