
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় ড্রাম ট্রাকের চাপায় ক্ষদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পাঁচ দিনমজুর নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নওগাঁ-পত্নীতলা আঞ্চলিক মহাসড়কের শিবপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর নিহতের এলাকা পরির্দশন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া নওগাঁ-৩ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান নিহতের পরিবারের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে সহযোগিতা করেছেন।
নিহতরা হলেন- উপজেলার নুরপুর গ্রামের মাংরা উরাও এর ছেল সঞ্চু উরাও (৪৮), জুটুয়া পাহানের ছেলে বিপুল পাহান (২২), অনিল পাহানের ছেলে বিপ্লব (২২) ও খোকা পাহানের ছেলে বিরেন (৫০) এবং অটোরিকশা চালক মৃত নরেন পাহানের ছেলে উজ্জ্বল পাহান (২৪)। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের চার কৃষক দুই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যোগে গতকাল শনিবার ভোরে সবজি বিক্রির জন্য উপজেলা সদরে হাটে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিপরীত দিক থেকে আসা বেপারোয়া গতির একটি ড্রাম ট্রাক নওগাঁ- পত্নীতলা আঞ্চলিক মহাসড়কের শিবপুর এলাকায় তাদের চাপা দিয়ে সড়কের নিচে ডোবায় পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ২ জন মারা যান।
স্থানীয়রা বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় আহত ৩ জনকে উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে অটোরিকশা চালক আরও ৩ জন মারা যান। ঘটনার পর নিহতের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের একমাত্র উপাক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা তারা। দরিদ্র এসব পরিবার সরকারের কাছে সহযোগীতায় চান নিহতের স্বজনরা। স্থানীয়রা জানান- অদক্ষ চালক ও বেপারোয়া গতির কারণে এ প্রাণহানীর ঘটনার জন্য দায়ী। আঞ্চলিক মহাসড়কে ড্রাম ট্রাক চলাচল বন্ধসহ বেপারোয়া গতির ভারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয়দের। বাড়ির উঠানে মাচায় সাদা কাপড়ে মোড়ানে ছিল সঞ্চু উরাও এর লাশ। আর পাশের স্বজনের কান্নায় ভারী হয়ে আসছিল আকাশ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী ভারতি উরাও। কান্নায় বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না।
ভারতি উরাও বলেন- এক ছেলে ও দুই মেয়ে। সবাই নাবালক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন স্বামী। অন্যের জমি বর্গা করে কোনো রকম সংসার চলতো। এখন সন্তানদের নিয়ে কীভাবে দিনপথ যাবে এই চিন্তার দিশেহারা তিনি। শিবপুর গ্রামের এনামুল হক বলেন, সড়কের পাশে বাড়ি। ভোর ৪টার কিছু পর বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে। সড়কে ছুটে এসে দেখি ড্রাম ট্রাক সড়কের নিচে পানিতে পড়ে আছে। আর অটোরিকশা দুইটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে ও কয়েকজন ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে ২ জন মৃত পাওয়া যায়। আরও তিনজন গুরুত্বর আহত। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তারাও মারা যায়। তবে ৬ জনের মধ্যে একজন অটোরিকশা চালক সুস্থ আছে। বাকি সবাই মারা গেছে। মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান বলেন, নিহতদের গ্রামের গিয়ে পরিবারে সঙ্গে কথা বলা ও খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। সরকারি যেসব সুযোগ সুবিধা আছে তাদের দেওয়া হবে।
নওগাঁ-৩ আসন (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান বলেন, নিহতরা সবাই আদিবাসী সম্প্রদায়ের। তারা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ও দিনমজুর। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আমরা বাকরুদ্ধ হয়েছি। নিহতের সৎকারের জন্য তাৎক্ষণিক প্রত্যেকে পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা সহযোগিতা করা হয়েছে। মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদ ইসলাম বলেন- বেপরোয়া গতির ড্রাম ট্রাকের কারণে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। চালককে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।