
বিশ্ববাজারে হঠাৎই কমতে শুরু করেছে স্বর্ণের দাম। গত শুক্রবার মূল্যবান এ ধাতুর দাম কমেছে আউন্সপ্রতি ৪৩৪ ডলার ৪৫ সেন্ট। দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। গত সপ্তাহেই স্বর্ণের দাম ইতিহাসে প্রথম ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। এমনকি একপর্যায়ে তা ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু সেই স্বর্ণের দাম এখন ৪ হাজার ৮৯৩ ডলার। অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৬০০ ডলারের বেশি কমে গেছে।
সংবাদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে কিছুটা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা যাওয়ার পরই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করেছে। উত্তেজনা কিছুটা কমলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেকটাই বেশি। খবর বিবিসির।
গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম পাঁচ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্প কাকে ফেডের চেয়ারম্যান হিসেবে নেন, তা নিয়ে আশঙ্কা। বাজারের আশঙ্কা ছিল, তিনি এমন একজনকে ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করতে পারেন, যিনি সুদের হার কমানোর বিষয়ে তার রাজনৈতিক চাপ মেনে নেবেন। এতে ডলারের মান কমে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এসব ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতেই বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকেছিলেন। কিন্তু ফেডের চেয়ারম্যান হিসেবে ট্রাম্প কেভিন ওয়ারশকে মনোনয়ন দিতে পারেন, এই খবর আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তুলনায় তাকে তুলনামূলকভাবে ‘নিরাপদ’ হিসেবে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। এ খবরে স্বর্ণ, রুপা ও প্লাটিনামের দাম একযোগে কমে যায়। তবে দরপতন সত্ত্বেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখনও মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিদ্যমান ও সম্ভাব্য নতুন শুল্ক আরোপ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত অব্যাহত থাকায় ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে সোনা ও রুপার আকর্ষণ এখনো অটুট। এবিসি রিফাইনারির ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান নিকোলাস ফ্রাপেলের ভাষায়, সোনা বিষয়টি ঠিক ঋণপত্রের মতো নয়। অন্য কারও দায়ের সঙ্গে এটি যুক্ত নয়, কিংবা শেয়ারের মতো কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল নয়। অনিশ্চিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে সোনা কার্যকর ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। তবে গত শুক্রবার যেভাবে স্বর্ণের দাম কমল, তাতে আবারও বোঝা গেল, স্বর্ণসহ সব পণ্যের দাম যেমন দ্রুত বাড়তে পারে, তেমনি দ্রুত কমেও যেতে পারে।
যে জিনিস বাজারে যত কম পাওয়া যায়, তার প্রতি মানুষের আকর্ষণ বরাবরই বেশি। বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিলের তথ্যানুযায়ী, এযাবৎকালে মোট প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ২৬৫ টন স্বর্ণ উত্তোলন করা হয়েছে। এ পরিমাণ স্বর্ণ দিয়ে তিন থেকে চারটি অলিম্পিক আকারের সুইমিংপুল ভরানো সম্ভব। এর বড় অংশই ১৯৫০ সালের পর উত্তোলন করা হয়েছে। তখন খনন প্রযুক্তির উন্নতি ঘটে এবং নতুন স্বর্ণের ভান্ডার আবিষ্কৃত হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে) বলছে, ভূগর্ভস্থ মজুত থেকে আরও প্রায় ৬৪ হাজার টন স্বর্ণ উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী কয়েক বছরে স্বর্ণের সরবরাহের গতি স্থিতিশীল হয়ে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনিশ্চয়তা যেভাবে বাড়ছে, তাতে স্বর্ণের দাম আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
দেশের বাজারেও কমেছে : বিশ্ববাজারে দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করেছে। যদিও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম তিন লাখ টাকার দিকে ছুটছিল। কিন্তু গতকাল শুক্রবার স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি কমেছে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দেয়। প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম কমেছে ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা। দাম কমার কারণে ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা।
গতকাল দাম কমার কারণে ২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি যথাক্রমে ১৪ হাজার ৯৮৮ ও ১২ হাজার ৮৮৮ টাকা। তাতে ২১ ক্যারেটের দাম হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা ভরি। ১৮ ক্যারেটের দাম হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা। এদিকে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি আজ ১০ হাজার ৯৬৪ টাকা কমে হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা।