
?লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে সয়াবিনের বাম্পার ফলনের আশা দেখা দিয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ, যা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শের ফলে এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
?উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সয়াবিন গাছগুলো সুস্থ ও সবলভাবে বেড়ে উঠেছে। কোথাও রোগবালাই বা পোকামাকড়ের তেমন আক্রমণ দেখা যায়নি। ফলে কৃষকরা ভালো ফলনের ব্যাপারে আশাবাদী। বিশেষ করে ৮ নম্বর দক্ষিণ চর বংশী ইউনিয়নের কানিবগা চর এবং ২ নম্বর উত্তর চর বংশী এলাকায় সবচেয়ে বেশি সয়াবিন চাষ হয়েছে। এসব এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে দৃষ্টিনন্দন সবুজ গাছের সারি এখন এক ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে, যা কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
?উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রায়পুর উপজেলায় কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ করা হয়েছে। অনুকূল পরিবেশ থাকায় প্রতি হেক্টরে ফলন সন্তোষজনক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে এ বছর উপজেলায় প্রায় ১২,৬৭২ মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
?স্থানীয় কৃষকরা জানান, সয়াবিন চাষে খরচ তুলনামূলক কম হলেও লাভের সম্ভাবনা বেশি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সেচের প্রয়োজনও কম পড়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ কমে এসেছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকিতে তারা আরও উৎসাহিত হয়েছেন।
?দক্ষিণ চর বংশীর কানিবগা চর এলাকার কৃষক আবদুল কাদের বলেন, এবার সময়মতো বৃষ্টি হয়েছে, জমিতে পানি জমেনি। কৃষি অফিসের পরামর্শ মেনে চাষ করেছি। গাছ ভালো হয়েছে, আশা করছি ফলনও ভালো হবে।
?অন্যদিকে উত্তর চর বংশীর কৃষক সোহেল মিয়া বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর খরচ কম হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আমরা ভালো লাভ করতে পারব। বাজারদরও ভালো থাকলে কৃষকরা আরও উৎসাহিত হবে।
?তবে সব কৃষক সমানভাবে আশাবাদী নন। একই এলাকার আরেক কৃষক আবুল বাশার জানান, গাছ দেখতে ভালো হলেও বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে। গত বছরও ফলন ভালো হয়েছিল, কিন্তু দাম কম থাকায় লাভ করতে পারিনি। এ বছরও যদি একই অবস্থা হয়, তাহলে খরচ উঠে আসাই কঠিন হয়ে যাবে। এছাড়া মাঝে মাঝে কীটনাশকের দাম বাড়ায় খরচও বেড়ে যায়, যা আমাদের জন্য চাপ হয়ে দাঁড়ায়।
?উপজেলা কৃষি অফিসার মাজেদুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের সচেতনতার কারণে রায়পুরে সয়াবিনের ভালো ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছি। আশা করছি, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ১২,৬৭২ মেট্রিক টন উৎপাদন সম্ভব হবে।
?তিনি আরও বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আগাছা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
?তবে কৃষকরা ভালো ফলনের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। তারা বলেন, বাজারে দাম কমে গেলে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া সম্ভব হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
?স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রায়পুর অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া সয়াবিন চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় প্রতিবছরই এখানে আবাদ বাড়ছে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সুবিধা উন্নত না হলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
?বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রায়পুরে সয়াবিনের এ বাম্পার ফলন দেশের তেলবীজ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের আরও প্রণোদনা ও সহায়তা দেওয়া গেলে আগামী বছরগুলোতে সয়াবিন চাষের পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
?সবমিলিয়ে, অনুকূল আবহাওয়া, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও কৃষকদের পরিশ্রমে রায়পুরে সয়াবিনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এর সুফল পেতে হলে উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।