ঢাকা শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মানহানির মামলায় এমপি আমির হামজাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ

মানহানির মামলায় এমপি আমির হামজাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে (টুকু) নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্যের অভিযোগে করা মানহানির মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আমির হামজাকে ১৯ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন ভূইয়া এ সমন জারি করেন।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা দায়রা ও জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সিরাজগঞ্জের কৃতী সন্তান ইকবাল হাসান মাহমুদকে নাস্তিক বলে অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছেন আমির হামজা। সেই সঙ্গে তিনি ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যও করেছেন। এ কারণে আমরা ক্ষুব্ধ হয়ে ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছি।’

অন্যদিকে গত সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জে ওই অভিযোগে পৃথক মামলা করেন জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নাজমুল ইসলাম। পরে বিচারক সুমন কুমার কর্মকার মামলাটি আমলে নিয়ে আদেশের অপেক্ষায় রেখেছেন।

নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান প্রদর্শন করে বিদ্যুৎমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তাঁর সম্মানহানি করেছেন আমির হামজা। আমি এই অন্যায়ের বিচারপ্রার্থী হয়ে আদালতে মানহানির মামলাটি করেছি।’

২৬ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে একটি বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যকে ঘিরে গত শুক্রবার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনায় তাঁকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেন আমির হামজা।

এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের এমপি ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জে আরও একটি মানহানির মামলা করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হুমায়ূন কবীর বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক সুমন ভুঁইয়া মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারির নির্দেশ দেন। এর আগে গত ৩০ মার্চ দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে অ্যাড. এসএম নাজমুল ইসলাম মন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় আমির হামজার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মামলার বাদী অ্যাড. হুমায়ূন কবীর এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান হাসান মাহমুদ একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। তিনি তার সংসদীয় আসনে অসংখ্য মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি ইসলামের সমস্ত আদেশ মেনে যথারীতি নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত পালন করে আসছে। কিন্তু গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মুফতি আমির হামজা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক ও আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী। পরবর্তীতে তার ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ পেলে আমার নজরে আসে। এতে জ্বালানি মন্ত্রীর সম্মান হানি হয়েছে বলে আমি দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মানহানির একটি মামলা করেছি।

ছড়িয়ে পড়া এক মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ক্লিপে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক এবং ইসলামবিদ্বেষী, আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী; যদিও বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামী বা চরমোনাই পীরের বিরোধী না, তিনি ইসলামবিদ্বেষী। এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি, তাহলে মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছে, আপনি বলেন? মুক্তিযোদ্ধারা এখনো বেঁচে আছেন। তাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা ধর্মবিদ্বেষী বা ইসলামবিদ্বেষী কি-না।’

এমপি আমির হামজা আরও বলেন, ‘আমি সকাল থেকে মেডিকেলে ছিলাম। পাঁচ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না জেনারেটর চালাতে। একটি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানুষের জীবন এখন বিপন্ন। এ ধরনের অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব না দিয়ে যোগ্যদের বসানো হলে এমন হাহাকার লাগতো না।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত