ঢাকা শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

ইঁদুরের আক্রমণ থেকে ধানখেত রক্ষা করছে ‘বাঁশের চোঙা’ ফাঁদ

ইঁদুরের আক্রমণ থেকে ধানখেত রক্ষা করছে ‘বাঁশের চোঙা’ ফাঁদ

দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলায় আমন ও বোরো ধান খেতে ইঁদুরে আক্রমণ ঠেকাতে কৃষকের একমাত্র ভরসা এখন ভ্যানচালক আসাদুজ্জামানের আবিষ্কার বাঁশের চোঙা ফাঁদ।

আমন ধানের খেতে ইঁদুরের উপদ্রব নতুন নয়। ইঁদুরের কাছ থেকে ধানের জমি বাঁচাতে কৃষকরা যুগে যুগে নানা কৌশল ব্যবহার করে আসছেন। বিষটোপ, পলিথিনের নিশানা, কলাগাছে লোহার তৈরি ফাঁদ ইত্যাদি ব্যবহার হয়ে আসছে। এরমধ্যে বেশ কয়েক বছর ধরে কৃষকরা আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় প্রযুক্তি ‘বাঁশের চোঙা ফাঁদে’। এতে তারা দারুণ সুফল পাচ্ছেন। আর এই বাঁশের তৈরি চোঙা ফাঁদ দিয়ে ইঁদুর নিধনকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন চিরিরবন্দর উপজেলার সাইতারা ইউনিয়নের পূর্ব খোচনা গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে আসাদুজ্জামান। প্রতি সিজনে আয় করছেন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। উপজেলার পলাশ বাড়ি গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে বোর ও আমন ধানের আবাদ করে আসছি। কিন্তু প্রতিবারেই ধান বের হবার ঠিক আগ মুহূর্তে ধানের গাছ কেটে ফেলে ইঁদুর। বাজার থেকে বিভিন্ন নামি দামি কীটনাশক ব্যবহার করেও ইঁদুর থেকে ধান খেতের রক্ষা করা যায় না। আমার বাসা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে আসাদুজ্জামানের বাড়ি অন্য কৃষকের মুখে শুনি যে আসাদুজ্জামান বাঁশের ফাঁদ দিয়ে ইঁদুর ধরে তাই তাকে ডেকে একদিন ৩০টির বেশি ইঁদুর মারছি আর ধান কাটছে না ইঁদুর থেকে অনেক স্বস্তি পেয়েছি।

খোচনা গ্রামের আরেক কৃষক আরমান আলী জানান, আমাদের কৃষের বন্ধু হয়েছে আসাদুজ্জামান তার তৈরি বাঁশের ফাঁদে ধান খেতের ইঁদুর নিধনে কৃষকের স্বস্তি। না হলে প্রতি মৌসুমে ইঁদুরের হাত থেকে ধান খেতের রক্ষা করা খুব কষ্ট হয়। ধানখেত থেকে একটি ইঁদুর মারা ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা নেয়; কিন্তু ধান খেতে ইঁদুর আর আক্রমণ করতে পারে না। এতে ফসলের উৎপাদন বাড়ছে আমাদের কৃষকদের।

ইঁদুর নিধনে বাঁশের তৈরি ফাঁদ তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করা আসাদুজ্জামান বলেন, প্রথমে আমার নিজের ধান খেতে ইদুর মারার জন্য বাঁশের ফাঁদ তৈরি করি। প্রথম দিকে ফাঁদে ইঁদুর আটক কম হয় কোনোদিন ইঁদুর আটক হয়, আবার কোনোদিন ইঁদুর ফাঁদ থেকে বের হয়ে যেত। পরে বাঁশের ফাঁদটি নিয়ে বেশ কয়েকবার গবেষণা করে ফাঁদের ডিজাইনটা পাল্টে ফেলি, এখন প্রতি ধানের মৌসুমে ৩ থেকে ৪ হাজারের বেশি ইঁদুর মারি। ধান খেতে ইঁদুর মারার জন্য বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে কৃষকরা ফোন করে।

কৃষকরা বলেন, আমার ধানখেত ইঁদুর শেষ করে দিচ্ছে আপনি একদিন সময় করে ইঁদুর মারে দেন। কিন্তু আমার দূরে যাওয়ার সময় হয় না, আমার উপজেলার বিভিন্ন কৃষের জমি থেকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৭০টি পর্যন্ত ইঁদুর মারে দেই। আমি ভ্যান চালক পাশাপাশি কৃষকের ধান খেতের ইঁদুর মারে দিয়ে প্রতিটি ইঁদুর মারে কেউ ৩০, ৪০ আবার কেউ ৫০ টাকা দেয় এভাবে সিজনে ৪০ হাজারের বেশি টাকার আয় করি।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম নবাব বলেন, বোরো ও আমন ধানের আবাদ ইঁদুরের হাত থেকে কৃষক বাছাতে কৃষকের ভরসা এখন আসাদুজ্জামান তার বাঁশের তৈরি ফাঁদে প্রতি বছর তিন থেকে চার হাজার ইঁদুর মারে এ পর্যন্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার ইঁদুর মারছে। ইঁদুর মারার জন্য কৃষি বিভাগ থেকে তাকে পুরস্কৃত করেছে। আমরা কৃষি বিভাগ আশা করছি সে জাতীয় পর্যায়ে ইঁদুর মারার জন্য পুরস্কৃত হবে। আমরাও কৃষকদের উদ্বোর্ধ করছি ইঁদুর মারার জন্য কীটনাশক ব্যবহার না করে বাঁশের তৈরি ফাঁদ ব্যবহার করার জন্য।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জোহরা সুলতানা বলেন, ফসলের জন্য যে কয়েকটি বালাই রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম ইঁধুর। আমরা জানি ইঁদুর একটি চালাক প্রাণী ইঁদুরকে দমন করা অনে কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ফসলের ক্ষেত্রে ইঁদুর নিধনের জন্য আমরা বিভিন্ন সময় বিষটোপ বিভিন্ন ফাঁদ দেখি তবে মাঠ পর্যায়ে সবচেয়ে কার্যকরী হচ্ছে বাঁসে তৈরি ফাঁদ। কৃষকরা বাঁশের তৈরি ফাঁদ দিয়ে ইঁদুর নিধন করে নিজেদের ফসল রক্ষা করছেন। আমরা কৃষকদের এ বিষয় বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত