
ঈদ আসলেই যমুনা সেতুতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৫-৬ গুণ যানবাহন পারাপার বেড়ে যায়। এ সময় যমুনা সেতুতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি গণপরিবহন পারাপারের কারণে যানজটের শঙ্কা থাকে। অপরদিকে যানজট নিরসনে ৩০০ মিটার পর পর সিগনাল ম্যান নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেতু কর্তৃপক্ষ। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে।
এদিকে আগামী দিনগুলোতে দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোঃ শামসুল আলম সরকার জানান, জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানজট নিরসনে এক হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে করে ঘরমুখো মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছে প্রিয়জনদের সাথে পবিত্র ঈদুল আযহা উপভোগ করতে পারে ।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মধ্য রাত থেকে শনিবার মধ্য রাত পর্যন্ত যানবাহন পারাপার হয়েছে ৩২ হাজার ৬৪৯টি। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা।
সেতু এলাকার গোলজার হোসেন জানান, এরমধ্যেই যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে আগামীকাল সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান ছুটির ঘোষণা দিয়েছে। এতে আগামীকাল বিকেল থেকেই রাজধানী থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে। প্রশাসনের সুষ্ঠু নজরদারি থাকলে যানজটের শঙ্কা কিছুটা লাগব হবে। হানিফ পরিবহনের চালক মোস্তফা জানান, রোববার ঢাকা থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় রওনা হয়েছিলাম। তাতে রাস্তায় বড় কোন যানজটে পড়তে হয়নি।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদকে সামনে রেখে কয়েক দিন ধরেই সেতুতে গণপরিবহনের চাপ বাড়ছে। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ সামলাতে এবং দ্রুত টোল আদায় করতে সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে মোটরসাইকেলের জন্য দুটি করে মোট ৪টি পৃথক বুথসহ মোট ১৮টি বুথের মাধ্যমে টোল আদায় করা হচ্ছে।
এছাড়াও যমুনা সেতুতে যানজট নিরসনের জন্য ৩০০ মিটার পর পর সিগন্যাল ম্যান দায়িত্ব পালন করছে। এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. শরীফ হোসেন জানান, মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সন্ধার পর যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে। এদিকে সোমবার থেকে সকল প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করেছে। এর ফলে যানবাহনের চাপ থাকবে, তবে তবে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যানজট নিরসনে সব সময় তৎপর রয়েছে।