ঢাকা সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জামায়াতে অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ আশ্রয় নিয়েছে

বললেন রিজভী
জামায়াতে অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ আশ্রয় নিয়েছে

জামায়াতে ইসলামীতে অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন।

জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের উদ্যোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিরোধে জিয়া’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ওনারা (জামায়াতে ইসলামী) বড় বড় কথা বলছেন, টেলিফোনে চাঁদাবাজি হয়েছে। তো নিজেদের দিকে একবার তাঁকান। মিরসরাইয়ে ফেনী নদীর বালু তুলতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন জামায়াতের দুই নেতা-একজনের নাম জাহাঙ্গীর আরেকজনের নাম রবিউল। ফেনীতে মামলার থেকে অব্যাহতি দেবে বলে এক নেতা সে আবার রোকন তাদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে সেটাও পত্রপত্রিকায় এসেছে। আমি তো একটা কি দুইটা উদাহরণ দিলাম।’

তাহলে তো জামায়াত প্রশ্রয় দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রিজভী বলেন, ‘ধর্মের নামে রাজনীতি করেন সব নাকি পবিত্র মানুষ। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে থেকে যেমন তারা গুপ্ত রাজনীতি করেছে, তেমনি অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজও জামাতের মধ্যে আশ্রয় নিয়ে আছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আপনারা (জামায়াতে ইসলাম) একটা আরবি শব্দ ব্যবহার করেন। চাঁদাবাজীর ক্ষেত্রে চাঁদাবাজী না বলে আপনারা সেটাকে হাদিয়াবাজী করেন, ইয়ানতবাজী করেন। আরবি শব্দ দিয়ে ওটাকে একটা কাভার দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটা একটা বড় ধরনের এই হাদিয়াবাজী-ইয়ানতবাজী আপনারা কম করেন না এবং বহু জায়গায় প্রমাণ আছে যে ধমক দিয়ে থ্রেড করে করছেন আমি তো দুই তিনটার নাম মাত্র বললাম, অসংখ্য আছে ‘রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমার কথা হলো রাজনৈতিক দলগুলোতে ঢুকে থাকতে পারে, ঢুকে যেতে পারে কিন্তু সেই দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কি-না। বিএনপির মধ্যে ৫ আগস্টে এই ধরনের কিছু কর্মকাণ্ড হয়েছে আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে শত শত নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছেন, দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে; শোকজ করা হয়েছে-কেউ বাদ যায়নি। শক্তিশালী নেতা থেকে শুরু করে একবারে তৃণমূল পর্যন্ত কেউ বাদ যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘তারপরে চাঁদাবাজির অভিযোগ আপনাদের নামে এবং আপনাদের অধিকাংশ রোকন সদস্য আপনাদের যে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নানা স্তরের লোক আছেন তারা অভিযুক্ত হয়েছে। যখন পেপারে এসেছে তখন আপনারা বহিষ্কার করেছেন। আপনারা ফেরেশতা হয়ে গেলেন কি করে? এত একেবারে পরিশুদ্ধ হলেন কি করে?’

বিএনপি নেতা রিজভী আরও বলেন, ‘তাহলে যেগুলো ধরা পড়েনি তারা তো আছেই আপনার দলের মধ্যে। তাহলে বড় বড় কথা বলছেন এই কারণে যে, বোধহয় পাওয়ারে চলে আসবে। কিন্তু এদেশের মানুষের মানে মাইন্ডসেটটা আপনারা বুঝতে পারেননি। এদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু জামাতকে পছন্দ করে না, এদেশের মানুষ ধর্মভীরু অতিরিক্ত ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডও পছন্দ করে না।’

রিজভী বলেন, ‘একদিকে যেমন ধর্ম ব্যবসা জামাত করেছে তাদেরকেও পছন্দ করে না। এদেশের মানুষ আবার একবারে ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী আওয়ামী লীগের যে সমস্ত সহযোগীরা আছে তাদের যে কর্মকাণ্ড সেটাও পছন্দ করে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এক নেতা যেমন বলেছিলেন মনে নাই আপনাদের.. লতিফ সিদ্দিকী যে হজ মক্কা শরীফে এগুলো নিয়ে কি মন্তব্য করেছিলেন, হজ আরবরা অর্থনৈতিক কারণে করেছে মানুষ এগুলো পছন্দ করেনি। আবার ধর্মের নাম বিক্রি করে ধর্ম ব্যবসা করে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া এটাও এদেশের মানুষ কোনোদিনই এটা পছন্দ করেনি।’

জাসাসের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আমি মনে করি যে, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন তারা একটা এদেশের মৃত্তিকা থেকে উৎসারিত আমাদের যে সংস্কৃতির যে স্ফুরণ সেটার অনুশীলন এবং চর্চা করা এর সাথে সংস্কৃতি মানেই শুধু নিজস্ব সেটা না। পৃথিবীর ভালো ভালো যে সাংস্কৃতিক অর্জনগুলো সেগুলোকে গ্রহণ করতেও তো কোনো অসুবিধা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্ব দর্শন কি পড়ি না? আমরা কি ইউরোপীয় দর্শন পড়ি না? আমরা কি ইউরোপের ভালো সংগীত বা অন্যান্য দেশের ভালো যে সংগীত, সেই সংগীত কি আমরা শুনি না? নিশ্চয়ই শুনি। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কোনো পরাশক্তি, কোনো আগ্রাসী শক্তি আমাদের নিজস্ব মৃত্তিকা থেকে উৎসারিত সংস্কৃতিকে বা আমাদের যে সাংস্কৃতিক শক্তি সেটাকে ধ্বংস করার উদ্দেশে যে ষড়যন্ত্র করবে, সেটাকে প্রতিহত করার দায়িত্ব হচ্ছে জাতীয়তাবাদী শক্তির এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর।’

অনুষ্ঠানে জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম সানির সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, সহ-সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, জাসাসের লিয়াকত আলী লাকি, ফরহাদ হোসেন নিয়ন, রাফিজা আলম লাকি প্রমুখ।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত