
রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে।
গতকাল বুধবার এ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তথ্য দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল এ বিষয়ে সংবাদমামাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান।
তদন্ত প্রতিবেদনে কী উঠে এসেছে তা নিয়ে কিছু বলতে চাননি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক জাহিদ। তিনিও বলেছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন। এদিকে আলোচিত এ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত নতুন একটি বিশেষ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনও জমা হয়নি। এ প্রতিবেদন আজ বৃহস্পতিবার জমা পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অধ্যাপক জাহিদ বলেন, মঙ্গলবার এ বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কোরবানির ঈদের আগের দিন ২৭ মে-বুধবার ভোরের দিকে আদণ্ডদ্বীন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে থাকা ছয় শিশুর সবাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে তাদের মৃত্যু হয়। সেদিনই মন্ত্রণালয়ের তরফে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এসি থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়েছিল বলে কথা উঠলেও সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসিতে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তা বলতে পারেনি।
আদণ্ডদ্বীন হাসপাতাল নির্ধারিত বিল্ডিং কোড এবং স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত অবকাঠামোগত মানদণ্ড পুরোপুরি মেনে চলছিল কি না, সেই প্রশ্নও এখন সামনে আসছে।
ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেছিলেন, ‘ভোরে এই রুমটিতে এসি জটিলতা অথবা যে কোনো কারণেই হোক ওখানের যে পরিবেশ একটি সাফোকেটিভ পরিবেশের মতো আমরা পেয়েছি। ওখানে আসলে এসি এমনভাবে ছিল যে, এসিটি বন্ধ করলে ওখানে আর ভেন্টিলেশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। এরকম একটি পরিস্থিতিতে আমরা ভোরে ৬ জন শিশুকে হারিয়েছি।’
ঈদের আগে পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেওয়া এ ঘটনায় এক শিশুর বাবা অবহেলার অভিযোগ এনে রমনা থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ এরই মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্ত করলেও প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। তারা এটি সরকারের কাছে জমা দেওয়ার কথা বলেছে।
এর আগে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে এক দফা সময় বাড়ানো হয়।
এ নিয়ে ৩০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকুল বলেন, ‘আমরা তদন্ত কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের পর্যবেক্ষণ দেখেছি। তবে এই ঘটনায় যাদের বাচ্চারা মারা গেছে তাদের সবার সঙ্গে এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কথা বলতে পারেনি তদন্ত কমিটি। তাই তারা সময় চেয়েছে।
আমরা এমন একটি প্রতিবেদন চাই যেখানে কোনো ঘাটতি থাকবে না। তাই এমন প্রতিবেদনে মৃত শিশুদের মায়েদের বক্তব্য খুবই জরুরি। তবে সেসব মায়েরা ঢাকার বাইরে থাকায় আরো দুই থেকে তিন সময় সময় লাগবে। যে কারণে তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ আগামী ৩ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।’