
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা খাত নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন, শিক্ষা বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ এবং কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকনেতারা। তারা বলেন, শিক্ষা বাজেটে ইশতেহারের প্রতিফলন না ঘটলে ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)-এর ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা বাজেট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ কথা বলেন।
আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী শৌর্য তালুকদার। তিনি বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষার উন্নয়নে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি ইশতেহারের লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো এবং ব্যয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি শিক্ষা। নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষার উন্নয়নে যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তিনি দ্রুত জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন পে-স্কেলের আওতায় আনার দাবি জানান।
আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের ডেপুটি এডিটর রাজু আহমেদ। তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাজেটের সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাকবিশিসের সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার। তিনি বলেন, শিক্ষা ও শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষায় বাকবিশিস দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনে সংগঠনটির প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাকবিশিসের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।