
সিরাজগঞ্জে এবার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হাইব্রিডসহ বিভিন্ন জাতের বারোমাসি মরিচ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ চাষাবাদে অনেক কৃষকের জীবনে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। বাজারে মরিচের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা খুশি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলসহ জেলায় প্রায় সাড়ে ১৬০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিডসহ দেশীয় জাতের মরিচ চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে চাষাবাদ করেছেন। উন্নত জাতের মরিচের মধ্যে রয়েছে যমুনা, বিজলী, রশনী, ঝিলিক ছাড়াও বারি-৩, সুপার সনিক, বগুড়া ও রংপুরীসহ স্থানীয় বিভিন্ন জাতের মরিচ।
জেলায় এবার মোট প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। হাইব্রিড মরিচের উৎপাদন বেশি থাকায় এ লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ গড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে যমুনা নদীর তীরবর্তী বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে এসব জাতের মরিচের ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য স্থানেও এসব জাতের মরিচ চাষ করা হয়েছে।
কৃষকরা চরাঞ্চলের বিভিন্ন আড়তসহ নাটোয়ারপাড়া, সোনামুখী, মাইঝবাড়ি, ওমরপুর ও শুভগাছা হাটে এসব মরিচ বিক্রি করছেন। এছাড়া পাইকারি ব্যবসায়ীরা কৃষকের জমি থেকেই সরাসরি মরিচ কিনে নিচ্ছেন। তারা কৃষকদের কাছ থেকে পাইকারি দরে মরিচ কিনে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ট্রাকযোগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চরাঞ্চলে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এ মরিচ প্রায় সারা বছরই উত্তোলন করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে বারোমাসি মরিচ চাষে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা বেশি লাভবান হচ্ছেন। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মাওলা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, কয়েক যুগ ধরে চরাঞ্চলের কৃষকরা বিভিন্ন জাতের মরিচ চাষাবাদ করছেন। এতে অনেক কৃষকের সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ মরিচ চাষিদের এ চাষাবাদে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে।
এবার এ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে এবং বর্তমানে বাজার ভালো থাকায় কৃষকরা খুশি। এ লাভজনক চাষাবাদে কৃষকরা আরও আগ্রহী হয়ে উঠছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।