ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ধারের টাকা শোধ না করতে আনোয়ারায় মা-মেয়েকে খুন

ধারের টাকা শোধ না করতে আনোয়ারায় মা-মেয়েকে খুন

চট্টগ্রাম আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করে পুলিশ বলছে, ধারের টাকা শোধ না করার উদ্দেশ্যে হলফনামার স্ট্যাম্প ছিনিয়ে নিতেই এ দুই হত্যাকাণ্ড ঘটান তাদেরই এক স্বজন। ওই ব্যক্তি অটোরিকশা কেনার জন্য নিহতদের পরিবারের কাছ থেকে সোয়া লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন বলে ভাষ্য পুলিশের।

গতকাল সোমবার দুপুরে নিজ জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

গত শনিবার রাতে আনোয়ারা উপজেলার চেনামতি বড়ুয়া পাড়ায় খুন হন স্থানীয় সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। এ ঘটনায় রোববার রাতে সুজন বড়ুয়ার চাচাত ভাই, প্রতিবেশী রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজপ্রিয় বড়ুয়া তেজুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে একমাত্র তেজু নিজেই জড়িত বলে স্বীকার করেছে। তার সঙ্গে সুজন বড়ুয়ার টাকার লেনদেন ছিল। অটোরিকশা কেনার জন্য সুজন বড়ুয়ার কাছ থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ধার নেয় এই শর্তে যে, প্রতি মাসে সুদসহ কিস্তি আকারে টাকা পরিশোধ করবে। এটার জন্য একটা লিখিত স্ট্যাম্প ছিল, যে স্ট্যাম্প সংরক্ষিত ছিল সুজন বড়ুয়ার কাছে। এই স্ট্যাম্পের কারণে মাসে মাসে পরিশোধ করত। তবে রেগুলার দিতে পারত না। এ কারণে অন্তঃকলহ দেখা দেয়। সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তখন তেজু প্লান করতে থাকে, কীভাবে টাকাটা না দিতে হয়। ওই স্ট্যাম্পটা যদি কোনোভাবে নিয়ে আসতে পারে, তাহলে হয়তো টাকা দিতে হবে না বা সুজন টাকা দাবি করলেও বলতে পারবে যে সে টাকা পরিশোধ করে দিয়েছে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, স্ট্যাম্প নেওয়ার জন্য সুজন বড়ুয়ার বাড়ির পেছনের দিকে, সেখানে একটা দরজা আছে; সেখানে গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তেজু অবস্থান করতে থাকে। রাত পৌনে ১১টার দিকে দরজা খুলে এনি বড়ুয়া বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এসময় তাৎক্ষণিক তাকে ধরে ফেলে তেজপ্রিয়। তখন এনি চিৎকার করলে তাকে এলোপাথাড়ি চাকু মারে। এনির চিৎকার শুনে প্রিয়ন্তী দৌড়ে গেলে তাকেও চাকু মারে। ভিকটিমের মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় সুজনের বাড়ির পেছনে ঝোপঝাড়ে চাকুটি ফেলে দেয় তেজু। পরে পুলিশ চাকুটি উদ্ধার করে। পরে রোববার রাতে পটিয়া থেকে তেজুকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পুলিশ সুপার।

ঘটনার পর প্রতিবেশীরা যখন ওই বাড়িতে যায়, তখনও এনি বড়ুয়া বেঁচে ছিলেন জানিয়ে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘সেখানে একজন একটি ভিডিও ধারণ করেন। তাতে অস্পষ্টভাবে এনি বড়ুয়া একটা নাম বলেছিলেন। আঞ্চলিক উচ্চারণে বলা সেই নাম আমরা বুঝতে না পারলেও প্রতিবেশীরা সেই নামটি বুঝতে পারে। তখন আমরা খোঁজ নিয়ে দেখি, ওই লোক পলাতক। পরে আমরা তাকে খুঁজতে শুরু করি। ঘটনার পর থেকে তেজু একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করেছিল জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘চন্দনাইশসহ কয়েকটি জায়গায় সে ঘুরতে থাকে। পরে পটিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। তাকে যাতে ট্রেস করতে না পারি, সেজন্য পটিয়ায় রেললাইনের পাশে এনি বড়ুয়ার মোবাইলটি ফেলে দেয়। তেজু বড়ুয়া স্থানীয়ভাবে খারাপ প্রকৃতির লোক বলে পরিচিত। সে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিল। তবে এই ঘটনা একেবারে টাকা লেনদেনের ঘটনার জেরে ঘটে। অন্য কোনো উদ্দেশ্য আমরা পাইনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে এসপি মাসুদ আলম বলেন, সুজন বড়ুয়ার কাছ থেকে নেওয়া টাকা সুদে-আসলে মাসে মাসে ফেরত দেওয়ার কথা। এই টাকাটা না দেওয়ার জন্য এই ঘটনা ঘটায়। তেজু বলেছে, ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য ছিল; খুন করার উদ্দেশ্য ছিল না। এনি তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করায় সে ছুরি মারে। সুজন বড়ুয়ার পাঁচ বছর বয়সি ছোট সন্তানটি ঘটনার সময় যখন সেখানে যায়. তখন ধস্তাধস্তিতে আঘাত পায় বলে জানিয়েছে তেজু। ওই শিশুকে সে আঘাত করেনি বলে দাবি করেছে। স্ত্রী ও মেয়েকে খুনের ঘটনায় সুজন বড়ুয়া বাদী হয়ে গত রোববার রাতে আনোয়ারা থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় তেজপ্রিয়কে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবারই আদালতে হাজির করার কথা ছিল বলে জানান পুলিশ সুপার।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত