
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তানের ‘ঐতিহাসিক ভূমিকার’ জন্য দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ অবস্থান ব্যক্ত করেন বলে জানা গেছে।
জামায়াত জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতার কার্যালয়ে ‘অত্যন্ত আন্তরিক, ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে’ এ বৈঠক হয়।
দলটির প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাকিস্তানের হাই কমিশনার বৈঠকে জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
হাই কমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছে। সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের একাধিক সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করেছে এবং পাকিস্তানের উন্নত শিক্ষা কাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বৈঠকে হাই কমিশনার জানান, পাকিস্তান আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের ৫০০ জন ছাত্রছাত্রীকে পর্যায়ক্রমে স্কলারশিপ দেবে। এর মধ্যে ৭৪ জন এরইমধ্যে পাকিস্তানে গেছেন।
আগামীতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আরও বেশি মেধা বিনিময়ের লক্ষ্য নিয়ে ‘কাজ চলছে’ বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্প সামনের দিনগুলোতে ‘আরও সংহত করার আশা’ ব্যক্ত করেন শফিকুর রহমান ও হাই কমিশনার। গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা মেলার সাফল্য সম্পর্কেও এ সময় বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করেন হাই কমিশনার।
পাকিস্তানের হাই কমিশনার ‘একটি সংসদীয় গ্রুপ গঠন এবং সংসদীয় পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার’ করার আহ্বান জানান।
অন্যদের মধ্যে পাকিস্তান হাই কমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাংগাল, বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।