ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ছাগল তুলতে পরিত্যক্ত কূপে নেমে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু

ছাগল তুলতে পরিত্যক্ত কূপে নেমে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়া ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অরনখোলা ইউনিয়নের গড় এলাকার টেলকির জলই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন জলই গ্রামের বাবুল হাদিমা (৪৮) ও তার ছেলে নেইমার ম্রং (১৪) এবং তাদের স্বজন রতন নকরেক (২৭) ও গাবরিয়েল নকরেক (৩২)। মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গতকাল সকালে বাবুলের একটি ছাগল ওই পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যায়। সেটি উদ্ধার করতে সকালে প্রথমে নেইমার ম্রংকে কূপে নামানো হয়। পরে কিশোরটির কোনো সাড়া না পেয়ে একে একে আরও তিনজন কূপে নামেন। কিন্তু তাদেরও কোনো সাড়া না মেলায় স্থানীয় লোকজন মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে খবর দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসমত আলীর ভাষ্য, ছাগলটি তুলতে বাবুল হাদিমা প্রথমে তার ছেলে নেইমার ম্রংকে (১৪) কূপে নামান। ছেলের কোনো সাড়া না পেয়ে পরে বাবুল নিজে কূপে নামেন। এরপর তাদের উদ্ধার করতে বাবুলের শ্যালক রতন নকরেক (২৭) এবং পরে তার ভগ্নিপতি গাবরিয়েল নকরেক কূপে নামেন।

ইউপি সদস্য আরও বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে আর কাউকে কূপে নামতে না দিয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর পাঠান। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কূপ থেকে চারজনের লাশ উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে ছাগলটি মৃত অবস্থায় সেখান থেকে তোলা হয়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কূপের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস বা অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোবায়ের হোসেন ও মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশগুলো সৎকারের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত