ঢাকা সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দুবাইয়ে মুক্ত বেনজীর, দেশে ফেরাতে আশাবাদী সরকার

দুবাইয়ে মুক্ত বেনজীর, দেশে ফেরাতে আশাবাদী সরকার

আরব-আমিরাতের দুবাইয়ে গত জুন মাসে গ্রেপ্তার হন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুর্নীতিসহ দেশে তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা চলমান। তাকে গ্রেপ্তারের পর দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এর মধ্যেই খবর আসে বেনজীর আহমেদ শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার মুক্তির খবর দিয়েছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। কারামুক্তির পর বেনজীর আহমেদের সঙ্গে তাদের প্রতিবেদকের কথাও হয়েছে। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই কারামুক্ত হন সাবেক আইজিপি।

এশিয়া পোস্ট লিখেছে, বেনজীরকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে শুনানি হয়। পরে বেনজীরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়। জামিনের ক্ষেত্রে আদালত শর্ত দিয়েছে, বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।

জামিন পেলেও আমিরাত ছাড়তে পারবেন না বেনজীর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত এ শর্তে জামিন দিয়েছেন যে, তিনি দেশটি ছেড়ে যেতে পারবেন না। গতকাল রোববার রাজশাহীতে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। বেনজীর আহমেদ জামিনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখন শুনলাম স্টেজে বসে। সঙ্গে সঙ্গেই আমি হোম সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলেছি। হোম সেক্রেটারি দুবাইয়ে আমাদের যে ইউএই অ্যাম্বাসেডার তার সাথে কথা বলেছেন। আমরা কয়েক দিন আগেই ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছি, এই বিষয়টার জন্য শুধুমাত্র। তাকে ইন্সট্রাকশন দেওয়া হয়েছে যেন বেইল ক্যানসেলেশনের জন্য সে পারসু করবে।’ বেনজীরের জামিন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি খবর পেয়েছি তাকে অন কন্ডিশনে এখানে তার ইউএই লিভ না করার শর্তে বেইল দিয়েছে। কী কী শর্ত সেটা আমি সার্টিফাইড কপিটা জোগাড় করতে বলেছি এবং আমাদের যে ল’ ফার্ম রয়েছে তাদের আমরা ইন্সট্রাকশন দিয়েছি যেন এই বেইল ক্যানসেলেশনের জন্য তারা পারসু করে।’

সাবেক পুলিশপ্রধানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে এখনও আশাবাদী সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সব চেষ্টাই চলছে। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার বেনজীর আহমেদ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে খবর আসে গতকাল রোববার। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আমিরাত কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য ও নথিপত্র জানতে চেয়েছিল। দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই কাঙ্ক্ষিত তথ্যগুলো ইতিমধ্যে তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে শামা ওবায়েদ বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব আইন অনুযায়ী তারা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্য আদান-প্রদান ও আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। অভিযুক্ত এই সাবেক পুলিশপ্রধানকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আমরা আশা করছি খুব শিগগির অভিযুক্ত আসামি বেনজীর আহমেদকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে এ দেশের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় তার বিচার কাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, এই বিষয়ে পরবর্তী কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এখনো বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে কিছু জানে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদরদপ্তরে এআইজি এ এইচ এম শাহদাত হোসাইন রোববার বলেন, সংবাদমাধ্যমে আসা খবরটি তিনি দেখেছেন এবং এ ব্যাপারে এনসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। ‘তারা আমাকে বলেছে, এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।’

আওয়ামী লীগ আমলের আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা বেনজীরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে তদন্ত করছে দুদক। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা হয়। সেই নোটিসের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তার করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ ১২ জুন ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানায়। এরপর ১৪ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত