
বগুড়া সদরে করতোয়া নদীর তীরে জঙ্গল ও ঝোপঝাড়ের ভেতরে তাঁবু টাঙিয়ে গড়ে তোলা একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ সময় বিদেশি পিস্তল, একাধিক দেশীয় অস্ত্র, বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত শনিবার গভীর রাতে শহরের লোকালয় থেকে দেড় থেকে ২ কিলোমিটার দূরে, বাঘোপাড়ায় টিএমএসএস পেপার মিলের পেছনে করতোয়া নদীর পাড়ে ডিবির তিনটি পৃথক দল এ অভিযান পরিচালনা করে বলে জানিয়েছেন বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি ইকবাল বাহার।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- বগুড়া সদর উপজেলার মহিষবাথান এলাকার রতন তালুকদার ছেলে রকি তালুকদার (৩০) এবং উপশহর স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকার শাহিন মণ্ডলের ছেলে রাকিব মন্ডল (২৮)। অন্যজন দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী (১৬)। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার নাম প্রকাশ করেনি ডিবি।
ওসি ইকবাল বাহার বলেন, জঙ্গল দিয়ে ঘেরা নির্জন ওই স্থানে তাঁবু টাঙিয়ে অস্থায়ী আস্তানা গড়ে তোলে একটি চক্র। সেখানে তারা নির্বিঘ্নে মাদক বিক্রি, মানুষকে জিম্মি ও অপহরণ, ইলেকট্রিক শকার দিয়ে নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায় এবং হানি ট্র্যাপসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, “অভিযানে অংশ নেওয়া দলটিকে দেখে চক্রের ৫ সদস্যের মধ্যে দুই সদস্য নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে চক্রটির মূল হোতা রকি ও তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড রাকিবসহ তিনজনকে আমরা হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছি। ”
রকির বিরুদ্ধে একাধিক এবং রাকিবের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও দ্রুত বিচার আইনসহ সাতটি মামলা রয়েছে বলে জানান এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছে থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, তিনটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি বড় ছোরা, একটি বার্মিজ চাকু, একটি ইলেকট্রিক শকার মেশিন ও লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল, চারটি বাটন ফোন ও একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
ওসি ইকবাল বাহার বলেন, “তাদের কাছে ৩৫ হাজার ভোল্টের একটি বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার মেশিন পাওয়া গেছে, যা দিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে নির্যাতন করা হতো। ” ওসি আরও বলেন, “বগুড়া শহরকে অপরাধমুক্ত রাখতে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পালিয়ে যাওয়া বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলার প্রস্তুতি চলছে।”