
ছুটির দিনের সকালে দেশের দুই জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন। বগুড়া ও সিলেটে পৃথক দুটি বাস দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে সকাল ৭টার মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
বগুড়ায় বাসচাপায় ৮ শ্রমিক নিহত : বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া এলাকার সিল্কিবান্ধায় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথের পাশে অপেক্ষমাণ শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে অন্তত ৮ জন নিহত এবং আরো ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহতদের মধ্যে বগুড়া সদর উপজেলার ফাপড় এলাকার বেলাল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আমিরুল ও নূর আলমের নাম জানা গেছে।
নিহত ও আহত সবাই কাজের সন্ধানে ভোরে এরুলিয়া বাজারে বসা শ্রমিকের হাটে এসেছিলেন। রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দিনমজুররা প্রতিদিন ভোরে এই হাটে কাজের সন্ধানে আসেন। স্থানীয় গৃহস্থরা এখান থেকেই শ্রমিক সংগ্রহ করেন।
বগুড়া সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, সকালে ঢাকা থেকে নওগাঁর উদ্দেশে ছেড়ে আসা শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস এরুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় সড়কের পাশে অবস্থানরত দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের ওপর বাসটি উঠে যায়।
তিনি জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়, পরে আরও চারজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অন্তত ২০ জনকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এ দুর্ঘটনায় মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
‘হঠাৎ গায়ের উপর বাস হুড়মুড় করে পড়ল’ : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্য বয়সের সাজু মিয়া এলাকার অন্য অনেক দিনমজুরের সঙ্গে বগুড়ায় এরুলিয়ায় এসেছিলেন আমন মৌসুমের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে। প্রতিবছরই তারা আসেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে এরুলিয়ায় এসে একটি ঘরে রাত কাটিয়েছেন। এজন্য তাকে ২০ টাকা ভাড়াও দিতে হয়েছে। সাপমারা ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাজু মিয়া সকাল সকাল কাজের আশায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় রাস্তার পাশে বসেছিলেন। সঙ্গে আরও অনেকেই ছিলেন। এখান থেকে দরদাম করে দৈনিক চুক্তিতে তারা কৃষকের ক্ষেতে কাজ করতে যান। টানা সপ্তাহ দুয়েক কাজ পান তারা। টাকা-পয়সা জমিয়ে আবার গ্রামে ফিরে যান। তখন আলো ফুটেছে মাত্র; ভোর সাড়ে ৫টার মত হবে। ঠিক সেসময় একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাজু মিয়াদের উপর উঠে যায়। এরপর আর সাজু মিয়া কিছু বুঝে উঠতে পারেননি। সাজু মিয়া বলছিলেন, ‘আমরা কামলারা সব ভোরেত থেকে বসে আছি। কী বান হলো, আমরা কিছু বুঝেই উঠতে পারিনি। হঠাৎ গায়ের উপর বাস হুড়মুড় করে পড়ল। এরপর দেখলাম আশপাশে রক্ত, মানুষ পড়ে আছে। পরে লোকজন আমাক ধরে গাড়িত করে হাসপাতালে নিয়ে আসল।’
এই দুর্ঘটনায় আহত ১৪ জনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাজু মিয়া তাদের একজন। তিনি জরুরি বিভাগেরিএকটি বিছানায় শুয়ে কথা বলছিলেন। সাজু মিয়া বলছিলেন, হতাহতদের বেশিরভাগই কৃষি শ্রমিক ও দিনমজুর। নিহতদের মধ্যে দুজন বগুড়ার, বাকিরা গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট থেকে এসেছিলেন। নিহতরা হলেন- গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এনায়েতপুর গ্রামের আবু সাইদ (৪৫), বইল্লাগ্রামের নুর আলম (৪৫), জয়পুরহাটের কালাইয়ের আনারুল (৫৫), পাঁচবিবির আমিরুল (৪০), দিনাজপুররের পার্বতীপুরের তাজিমুল (৪৫), বগুড়া সদরের ফাঁপোড়ের বেল্লাল হোসেন (৪৫) এবং কাহালুর নারহট্ট গ্রামের নুর মোহাম্মদ সরদার (৬৭)। যখন দুর্ঘটনাটি ঘটে তখন এরুলিয়া বন্দরের মুদি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম দোকানেই ছিলেন। প্রচণ্ড শব্দ শুনে বাইরে এসে তিনি দুর্ঘটনার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
আব্দুর রহিম বলছিলেন, ‘এখানে তো কামলার (দিনমজুর) বাজার বসে। এই রাস্তার দুই ধারে সব লোকজন বসে থাকে। যার যার দরকার, দরদাম করে কামলাদের নিয়ে যায়। আজ হঠাৎ বাসটি এসে আমার দোকানের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লাগায়। কিন্তু বাস না থেমে লোকজনের উপর দিয়ে চলতে শুরু করে। ঘটনার পরপর বাসের চালক ও চালকের সহকারী (হেলপার) পালিয়ে গেছে। তারপর তো আমরা গিয়ে কয়েকজনকে তুলে হাসপাতালে পাঠাই।’ নিহত আবু সাঈদের খালাতো ভাই সাকিবুর হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘ভাই, কপালে লেখা ছিল। আমার আসার কথা আগামীকাল শনিবার। সাঈদ আর মামাতো বোনের স্বামী আমিরুল একদিন আগেই চলে আসে। এসেই তারা দুর্ঘটনায় পড়ে। দুজনেই মারা গেছে। এখন লাশের জন্য বসে আছি।’
নিহত নুর মোহাম্মদ সরদারের ভাতিজা আল আমিন সরদার বলেন, ‘ভোরে বড় চাচা জমিতে ধান লাগানোর জন্য শ্রমিক নিতে এরুলিয়া এসেছিলেন। এরপর আমরা খবর পাই যে, বাসের চাপায় তিনি মারা গেছেন। সেই খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে আসছি। সুস্থ মানুষ বাড়ি থেকে বের হয়ে আসল, এখন তিনি আর নেই। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে বগুড়া সদরের ফাঁপোড় এলাকার বেল্লাল হোসেনের মৃত্যু সম্পর্কে জানা গেছে। তারা বলেন, বেল্লাল নিজের মোটরসাইকেলে ছিলেন। তিনি হয়ত বাজারে শ্রমিক নিতে এসেছিলেন। শ্রমিককে নিয়ে মোটরসাইকেলে রাস্তার উপর এসেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারান। কিছুক্ষণ পর স্বজনরা মরদেহ এসে তার লাশ নিয়ে বাড়ি চলে যান। দুর্ঘটনার খবর জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশের সদস্যরা এরুলিয়া বন্দরে চলে আসেন। তারা মরদেহ উদ্ধার করেন। আহত কয়েকজনকে নিয়ে যান হাসপাতালে।
পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড় নিহতের পরিবারও পাঁচ লাখ টাকা করে পাবেন। সেটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের পর নিয়ম অনুযায়ী পাবেন তারা। ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর বাসটিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আর হতাহতদের পরিবারের কেউ যদি মামলা করেন, আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। এ ছাড়া দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত করবে।’
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু হতাহতদের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। এ সময় তিনি আহতদের চিকিৎসা সেবার খোঁজ নেন। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৯ : অন্যদিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বেঙ্গল পরিবহন ও ইউনিক পরিবহনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে একজন শিশু এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক। ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাস ও সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের একটি বাস দয়ামীর এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
তিনি আরও জানান, নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। আহতদের বেশির ভাগও একই বাসের যাত্রী। এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও হতাহতদের নামণ্ডপরিচয় পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে দুই বাসের সংঘর্ষের পর হতাহতদের অবস্থা দেখে তারা হতভম্ব হয়ে পড়েন। দুর্ঘটনার জন্য তারা বেঙ্গল পরিবহনের বাসটিকে দায়ী করছেন।
জায়ফা এখন শুধুই স্মৃতি, শোকে কাতর পরিবার : তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে হাসিমুখে ঢাকার দিকে যাত্রা করেছিলেন জাহাঙ্গীর আলম ও নুরুন্নাহার দম্পতি। বাবা-মায়ের কোলে বসা ছোট্ট তিন বছরের জায়ফা কি তখন জানতো, এই যাত্রাটিই তার জীবনের শেষ যাত্রা? বাসের জানালা দিয়ে আশপাশের দৃশ্য দেখছিল ১৬ বছর বয়সী জান্নাতুল। তার পাশেই বসা ছিল ছোট ভাই মোহাম্মদ। বড় দুই ভাই-বোন জানালার বাইরে তাকিয়ে জীবনের স্বাভাবিক আনন্দ উপভোগ করছিল, আর তাদের আদরের ছোট্ট বোন জায়ফা ছিলো মা-বাবার কোলে। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল, কিন্তু মুহূর্তের এক ঝড়ে সব উলটপালট হয়ে গেল। হঠাৎ এক বিকট শব্দ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের পলকে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে গিয়ে পড়ে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত জায়ফার বড় বোন জান্নাতুল। যে বোনটি কিছুক্ষণ আগেও বাবা-মায়ের কোলে ছিলো, সেই আদরের জায়ফাকে চিরদিনের মতো হারিয়ে ফেলার গভীর শোক আজ গ্রাস করেছে পুরো পরিবারটিকে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশীকাপন এলাকায় ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন ও সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে ৭জন মারা যান এবং পরে হাসপাতালে মারা যান আরও দুজন। এনিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৯ জন। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন জাহাঙ্গীর আলম ও চতুর্থ তলায় ভর্তি রয়েছেন নুরুন্নাহার। তবে দুর্ঘটনায় জান্নাতুল ও মোহাম্মদ তুলনামূলক কম আহত হওয়ায় জান্নাতুল ও মোহাম্মদ এরইমধ্যে বাসায় ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা।
জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় টায়ার মেরামতের ব্যবসা করেন। তাদের বাড়ি ঢাকায়। তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে ফিরছিলেন পথিমধ্যেই ঘটে এ দুর্ঘটনা। আহত জাহাঙ্গীরের প্রতিবেশী ব্যবসায়ী হাসান আহমদ জানান, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই ফোন করে দুর্ঘটনার খবর দেন। এরপর তিনি কয়েকজনকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন। হাসপাতালে আসার পর দেখেন সবাই আহত ও ছোট্ট মেয়েটা আর নেই।
এবিষয়ে জানতে চাইলে শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাশীকাপন এলাকায় বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সঙ্গে ইউনিক পরিবহনের বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে সাতজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজন মারা যান। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর রাশেদ মুনির বলেন, হাসপাতালে মোট ১৬ জনকে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রিতম নামে আরও একজন মারা যান। আহতরা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।