
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে দেশে আরও ৩ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছেন। এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২১৮ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৬৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৬ জন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামণ্ডবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে মারা যাওয়া ৩ জনের দুইজন সিলেটের বাসিন্দা (সিলেট-১ ও হবিগঞ্জ-১) এবং ১ জন ময়মনসিংহের বাসিন্দা। তবে এ সময়ে পরীক্ষায় কারও হামজনিত মৃত্যু নিশ্চিত হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, ১০১৭ জন নতুন রোগীসহ এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৫৫ জন এবং ২০১ জন নতুন রোগীসহ নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে। আর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৫২৫ জন।
ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ২৪৯ জন : দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় ২৪৯ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের হিসাবে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরের এই ২৪ ঘণ্টায় এইডিস মশাবাহিত রোগটিতে দেশে কারো মৃত্যু হয়নি। অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, দেশে ডেঙ্গুতে সবশেষ তিনজনের মৃত্যু হয় গত ৩ আগস্ট। সেই হিসাবে, প্রাণঘাতী এ রোগে গেল চার দিনে কারো মৃত্যু হয়নি। সরকারের হিসাবে, ডেঙ্গুতে চলতি বছর ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অগাস্টে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের শুক্রবারের বুলেটিনে যে ২৪৯ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হন ৭৩ জন। ২৭ জন ভর্তি হন দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ভর্তি হয় ৩৯ জন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে ৬৭ জন, খুলনায় ২৩ জন, ময়মনসিংহে ১৭ জন ও রংপুর বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ৩ জন ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দেশে ১৮ হাজার ১২৯ জন ডেঙ্গু নিয়ে হসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৯ জন। ২৪৯ জন ছেড়েছেন সবশেষ ২৪ ঘণ্টায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।