ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় মালিক ও সরকার যৌথভাবে কাজ করছে

বললেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী
গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় মালিক ও সরকার যৌথভাবে কাজ করছে

একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিক, মালিক ও সরকার ‘যৌথভাবে কাজ করে চলেছে’ বলে তুলে ধরেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম স্বীকার করছে, তাদের ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এমন একটি ‘মিডিয়া ইকোসিস্টেম’ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের ন্যায্য মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।’

গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক, এ কথা তুলে ধরে তিনি গণমাধ্যমকে শুধু একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যম শিল্পকে রাষ্ট্র ও সমাজের ‘অঘোষিত অথচ অনিবার্য চতুর্থ স্তম্ভ’ আখ্যা দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য গণমাধ্যম শিল্পের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেও শক্তিশালী হতে হবে। তিনি বলেন, ‘মালিকপক্ষ যদি ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসঙ্গত মুনাফা না পায়, তাহলে গণমাধ্যম শিল্প টেকসই হবে না। একই সঙ্গে শক্তিশালী বেসরকারি উৎপাদন অর্থনীতি ছাড়া পণ্য বিজ্ঞাপন বাজারও সম্প্রসারিত হবে না।’

বর্তমান সময়ে প্রচলিত গণমাধ্যমের সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হয়ে ‘মিডিয়া ইকোসিস্টেমকে’ আরো জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন তথ্যমন্ত্রী। এই পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎমুখী নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপরও জোর দেন তিনি। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার বলে মনে করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘সুশাসন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।’ এ প্রবণতাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বক্তব্য রাখেন। টিইসির আহ্বায়ক ও বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ও ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিইসির সদস্য সচিব ও সময় টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা-সিইও জুবায়ের বাবু। সেখানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত