
বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে মহাস্থানগড় সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের আপিল দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। গতকাল রোববার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়ে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিলের অনুমতি চেয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আপিল দায়েরের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি মহাস্থানগড় এলাকায় যেকোনো নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। সরকারের পক্ষে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, মহাস্থানগড়ে আগত নারীদের নামাজের স্থান ও ওয়াশরুম নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। মহাস্থানগড়ের ভেতরে নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এসব স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দিতে হাইকোর্টের রায় সংশোধনের আবেদন জানান তিনি।
অন্যদিকে রিটকারীর পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, মহাস্থানগড় একটি ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। এটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার ভেতরে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ হলে এটি চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সরকারকে আপিলের অনুমতি দেওয়া হলেও বর্তমানে যাতে সেখানে কোনো নির্মাণকাজ না হয়, সে জন্য স্থিতাবস্থার আদেশ দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
আইনজীবীরা জানান, ২০১০ সালে মহাস্থানগড়ের সীমানার মধ্যে তৎকালীন মাজার কমিটি মসজিদ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর মহাস্থানগড় সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষ থেকে রিট করা হয়।
রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট একটি কমিটি গঠন করে মহাস্থানগড় সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। ওই কমিটি মহাস্থানগড়ের পূর্ব পাশে, প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার বাইরে একটি মসজিদ নির্মাণের সুপারিশ করে। পরে শুনানি শেষে মহাস্থানগড়ের সীমানার মধ্যে যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট।