ঢাকা রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

‘যে অভিযোগে আ.লীগকে বিদায় করা হয়েছিল, একই পথে বর্তমান সরকার’

বললেন মিয়া গোলাম পরওয়ার
‘যে অভিযোগে আ.লীগকে বিদায় করা হয়েছিল, একই পথে বর্তমান সরকার’

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আওয়ামী লীগকে যেসব অভিযোগে ক্ষমতা থেকে বিদায় করা হয়েছিল, বর্তমান সরকারও প্রায় একই পথে এগোচ্ছে। চাঁদাবাজি, মাস্তানি, দমন-পীড়ন, লুটপাট ও দলীয়করণ আবারও ফিরে এসেছে। শুধু দলের নাম পরিবর্তন হয়েছে, কাজ একই রয়েছে।

গত শনিবার বিকালে তেরখাদা নতুন বাসস্ট্যান্ড চত্বরে তেরখাদা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা টাকা-পয়সা, মাস্তানি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি ছাড়া সাধারণ দ্বীনদার ও সৎ মানুষদের নিয়ে ১১ দলের পক্ষে যে জোয়ার তৈরি করেছিলাম, তা শুধু তেরখাদায় নয়, সারা বাংলাদেশে হয়েছিল। মানুষ চেয়েছিল দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ। চেয়েছিল ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন হবে না, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি হবে না, বিদেশে অর্থ পাচার হবে না এবং অন্যায়ভাবে কাউকে জেল-জুলুম, হত্যা, মামলা, রিমান্ড বা আয়নাঘরে নেওয়া হবে না।’

নির্বাচনের পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঈমানদার মুসলমান কখনও হতাশ হয় না। তবে দেশের অবস্থা ভালো নয়। তার অভিযোগ, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন, লুটপাট ও দলীয়করণ আবারও বাড়ছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ খারাপ, বিদায় করো ফ্যাসিবাদ, এই স্লোগান দিয়ে আমরা আন্দোলন করেছি। যে যে দোষে তাদের বিদায় করেছিলাম, প্রায় সেই লাইনেই তো যাচ্ছে। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষক, গরিব মানুষ ও সাধারণ পরিবারের অভাব দূর করার কথা বলা হলেও এখন দলীয় বিবেচনায় তালিকা তৈরির অভিযোগ উঠছে। বিএনপির বাইরে অন্য দলের মানুষের নাম তালিকায় না রাখার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মসজিদের ইমামণ্ডখতিবদের সম্মানী, ভাতা, রাস্তাঘাট, কাবিখার অর্থসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা দলীয়করণের অভিযোগও করেন তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আওয়ামী লীগ তো ওইটাই করছিল। আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কারও কার্ড থাকবে না, কারও ভাতা হবে না, এমন দলীয়করণের বিরুদ্ধেই তো বিএনপির সঙ্গে আমরা রাজপথে সংগ্রাম করেছি।

খুলনার বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সরেজমিনেও বিভিন্ন এলাকার অবস্থা দেখেছেন। তার দাবি, রূপসায় ঘরে ঘরে সন্ত্রাস ও মাস্তানি বেড়েছে। অস্ত্র নিয়ে সংঘাত চলছে। তিনি ‘বি কোম্পানি’র প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে যে পরিবর্তন মানুষ চেয়েছিল, তা পাওয়া যায়নি। আমরা যা বদলাতে চেয়েছিলাম, বদলও হয়নি। একই দিকে দেশ ধাবিত হচ্ছে। শুধু দলের নামটা বদলেছে, কাজ একই আছে।

তেরখাদা উপজেলা আমির মাওলানা হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সেক্রেটারি সাবেক ছাত্রনেতা নাহিদ হাসানের পরিচালনায় কর্মী সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা আমির মাওলানা মুহা. এমরান হুসাইন, নায়েবে আমির মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক স ম এনামুল হক, জেলা অফিস সেক্রেটারি মো. আশরাফুল আলম।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত