
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিনিধি দেওয়া হবে না। কারণ সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংশোধনের পরিবর্তে জুলাই জাতীয় সনদে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাতিত্ব করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও বিষয়টির বিরোধিতা করেছিলেন। আমরা সংস্কারের পথ এড়িয়ে সংশোধনের নামে এই কমিটি গঠনকে প্রত্যাখ্যান করছি।
ওই কমিটির পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে মতবিনিময়ের জন্য প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু ১১ দলীয় ঐক্য কেন সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি; বিষয়টি পরিষ্কার করেন তিনি। বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, তারা সংবিধান সংশোধনের কোনও উদ্যোগকে ধারণাগতভাবে সমর্থন করবেন না। আমাদের দাবি, বিএনপির ৩১ দফার প্রথম দফাতেও সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম এবং গণভোট সবকিছুর লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র ও সংবিধানের সংস্কার। ফলে এখন সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে গিয়ে শুধু সংসদীয় সংশোধনের পথে যাওয়া উচিত নয়।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী, বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ 'হ্যাঁ' ভোট পড়ে। গণভোটে জুলাই সনদের ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের মতামত নেয়া হয়েছিল। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ শুধু কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিষয়ে মত দেয়নি; বরং সংস্কার বাস্তবায়নের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াকেও অনুমোদন দিয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা 'জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫'-এ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদের সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিধান রাখা হয়েছে।