ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি, এনবিআরের সিদ্ধান্ত বদলে চাপে ব্যবসায়ীরা

রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি, এনবিআরের সিদ্ধান্ত বদলে চাপে ব্যবসায়ীরা

দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঘাড়ে ফের বড় লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে সংস্থাটি। কর ফাঁকি রোধ, বকেয়া কর আদায়, কর জাল বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এনবিআর। তবে বাজেট পাশ হওয়ার পর ত্রৈমাসিক ভ্যাট রিটার্ন পদ্ধতি থেসে সরে এসে ফের প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন, প্যাকেজ ভ্যাট চালু করাসহ এনবিআরের একাধিক সিদ্ধান্তে বিচলিত খাত সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, এনবিআরের নানামুখী উদ্যোগের পরও রাজস্ব আদায় সন্তোষজনক নয়। এ কারণে প্রায় তিন মাসের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায়ের তথ্য অফিশিয়ালি প্রকাশ করেনি এনবিআর। এ বিষয়ে এনবিআরের দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, আয়কর আইনের পরিবর্তন ও ভ্যাট রিটার্ন জমার নিয়ম পরিবর্তনের কারণে সমন্বয় করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এখানে গোপন করার কিছু নেই।

তবে জানা গেছে, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও দেশে চলমান জ্বালানি সংকটে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে ব্যক্তি আয় ও রাজস্ব আদায়ে।

এছাড়া আগে কর দিলে আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা থাকলেও সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ছয় লাখের কিছু কম রিটার্ন দাখিল হয়েছে। গত অর্থবছর পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর। তবে কয়েক দফা বাড়িয়ে তা ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। গত কর বছরে সবশেষ করবর্ষে রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার করদাতা। এনবিআরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ। ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও জটিলতা কমাতে গত বাজেটে প্রতি মাসের পরিবর্তে তিন মাস পরপর ভ্যাট রিটার্ন জমা ও ভ্যাট পরিশোধের সুযোগ দেয় সরকার। তবে নতুন ব্যবস্থা চালুর পর প্রথম দুই মাসে ভ্যাট আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করছে এনবিআর।

অর্থাৎ তিন মাস পরপর ভ্যাট পরিশোধের পরিবর্তে আগের মতো প্রতি মাসেই ভ্যাট পরিশোধের নিয়ম ফিরিয়ে আনা হতে পারে। সম্প্রতি এনবিআরের ভ্যাট নীতি শাখা অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় সরকার।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, 'তিন মাস পরপর ভ্যাট রিটার্ন দেওয়ার পদ্ধতি উঠিয়ে দেওয়া আমাদের জন্য ভালো সংবাদ না। প্রতি মাসে মাসে কি ভ্যাট রিটার্ন দিব না ব্যবসা করবো? অনলাইনে দেওয়ার জন্য বলা হয়, কিন্তু অনলাইন তো আমরা বুঝি না। অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রস্তুত নন। তিন মাস পরপর না হলে কাউকে ধরে বলা যায় যে একটু করে দাও। অনলাইনে দিলেও অফলাইনে কাগজপত্র জমা দেওয়া লাগে। এটা খুবই টেকনিক্যাল কাজ।' গুলিস্তানের পোশাক ব্যবসায়ী তুহিন ফিরোজী বলেন, 'প্রতি মাসে রিটার্ন দেওয়াটা একটু কঠিন। কাজের সময় থেকে আলাদা সময় বের করে ভ্যাট অফিসে যাওয়া লাগে। এটা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন। তিন মাস পরপর দেওয়ার সুযোগ থাকলে তাতে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধা হয়, প্রতি মাসে টাকা দেওয়ার চাপ থাকে না।'দেশে বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধিত বা বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বরধারী (বিআইএন) ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮ লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রতি মাসে প্রায় ৫ লাখ রিটার্ন জমা পড়ে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টের সাময়িক হিসাবে দেখা গেছে, আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ভ্যাট আদায় প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। এনবিআর সূত্রে জানা যায়, গত জুলাইয়ে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৩০১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। আবার আগস্টের সাময়িক হিসাবে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৮ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। আগের বছরের আগস্টে এর পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৮১ কোটি টাকা। এছাড়া গত জুনের তুলনায় জুলাইয়ে ভ্যাট রিটার্ন জমার সংখ্যাও কমেছে। জুনে ৩ লাখ ২৮ হাজার ভ্যাট রিটার্ন জমা পড়লেও জুলাইয়ে তা কমে ৩ লাখ ৬ হাজারে নেমেছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সেপ্টেম্বরের পর এটা রিভিউ হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত