ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের পরিবারের আপসনামা দাখিল

পিপি বললেন আদালত আমলে নেননি
গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের পরিবারের আপসনামা দাখিল

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যার ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারের আপসনামা আদালতে দাখিল করা হয়েছে। তবে এটি আদালত আমলে নেননি বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী। গতকাল বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহের আদালতে গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন শুনানি ছিল। আদালত বয়স ও নারী বিবেচনায় শুধু মাকছুদার জামিন মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আদালতে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জামিন পেলে বাদী মো. মাসুম বিল্লাহর (মরিয়মের বাবা) কোনো আপত্তি নেই বলে জানান। এদিন আসামিপক্ষ জামিননামার সঙ্গে একটি আপসনামা দাখিল করেন, কিন্তু আদালত আপসনামা গ্রহণ করেনি। বয়স ও নারী বিবেচনায় মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। আপসনামা আদালত গ্রহণ করলে তো দুজনকেই জামিন দিতেন। এই মামলা আপসযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান জানান, আদালত আপসনামা আংশিক গ্রহণ করেছেন। আংশিক গ্রহণ করে মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেছেন। আর গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর করেছেন।

এটাকে আপসনামা আংশিক গ্রহণ করা বলা যায় কি না, জানতে চাইলে এই আইনজীবী বলেন, 'বলা যায়।' ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এরপর রাতে গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম ও নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন ও মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে মাকছুদা বেগমকে ২২ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর নজরুল ইসলামকে চার দিন করে দুই দফায় আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

এই মামলার তৃতীয় আসামি ভুক্তভোগীর মামা ওবায়দুর রহমানকে ঢাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-২। এরপর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত