ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে রিট আবেদন

পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে রিট আবেদন

পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং পদ্মা সেতু ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাই কোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার পক্ষে এর চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম রহমান ভূঁইয়া গত রোববার জনস্বার্থে রিট মামলাটি দায়ের করেন।

তিনি গতকাল সোমবার বলেন, "রোববার হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিত উপায়ে বালু উত্তোলন সংক্রান্ত রিট আবেদন করা হয়েছে।"

"বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে এই আবেদনের শুনানি হবে।"

মামলায় পানিসম্পদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, নৌ-পরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু, স্বরাষ্ট্র, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক, ভূমি এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ২৩ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে পদ্মা নদীর সুরক্ষা, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা, নদীভাঙন ও কৃষিজমির ক্ষতি রোধ এবং পদ্মা সেতু ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নিরাপত্তায় কর্তৃপক্ষের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন অনুসরণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রযুক্তিগত ও পরিবেশগত সমীক্ষা চালিয়ে নদীর তলদেশের অবস্থা এবং পদ্মা সেতুর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণ, ইজারার শর্ত ও অনুমোদিত সীমানা যাচাই এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন রয়েছে। রিট আবেদনে সংশ্লিষ্ট এলাকার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। রিট আবেদনে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে বলা হয়েছে, ইজারার শর্ত ভেঙে ১৮ থেকে ২০টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পাড় ভাঙছে। এতে ইজারার ১৩ নম্বর শর্ত লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত এলাকার বাইরে বালু উত্তোলনের কারণে শরীয়তপুরের জাজিরায় চর ধসে তিন মাসে প্রায় ২০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে। বাঁধের কাছে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড জনস্বার্থ, পরিবেশ ও আইনের শাসনের পরিপন্থি বর্ণনা করে পদ্মা নদী ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে মামলায়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত