ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

রজনীগন্ধা চাষে বেকারত্ব দূর

রজনীগন্ধা চাষে বেকারত্ব দূর

অভাব-অনটন আর বেকারত্বের সঙ্গে লড়াই করে মাত্র ১৫ শতাংশ জমিতে রজনীগন্ধা ফুল চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার উমরনগর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সোহানুর রহমান। একসময় জীবিকার তাগিদে কখনও রাজমিস্ত্রি, কখনও কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করা এই তরুণ এখন ফুল চাষের মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন নতুন সম্ভাবনা। ২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করার পর অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যায় তার পড়াশোনা। বিদেশ যাওয়ার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। পরে এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে কৃষিকাজে আগ্রহী হয়ে মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় ১৫ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন রজনীগন্ধা চাষ। যশোরের গদখালী থেকে ফুলের কন্দ সংগ্রহ, জমি প্রস্তুত, বেড়া দেওয়া, সার ও ওষুধ কেনাসহ প্রাথমিক বিনিয়োগ দাঁড়ায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

সোহানের এই উদ্যোগে এরইমধ্যে সাফল্য এসেছে। এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেছেন তিনি। বর্তমানে প্রতিটি ফুলের স্টিক বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকা দরে। বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালীসহ ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও মাগুরা ও যশোরে যাচ্ছে তার বাগানের ফুল। উদ্যোক্তা সোহানুর রহমান বলেন, একসময় বেকারত্ব আর অভাব-অনটনের কারণে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে কোনো কাজ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। পরে চিন্তা করলাম, অন্যের কাজ করার পাশাপাশি নিজের কিছু একটা করা দরকার। সেই চিন্তা থেকেই রজনীগন্ধা চাষ শুরু করি। প্রথম দিকে অনেক ভয় ছিল, আদৌ সফল হতে পারব কি না। তবে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতে পেরেছি। এতে আমি অনেক আশাবাদী। আমার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে বাগানের পরিধি আরও বাড়াব এবং নিজের পাশাপাশি অন্য বেকার তরুণদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেব। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে আরও বড় পরিসরে ফুল চাষ করতে চাই।

বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, ফুল চাষ একটি সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোগ। রজনীগন্ধার বাজারে চাহিদা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক পরিচর্যা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করলে এ চাষ থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত