
কোরআন মজিদের দীর্ঘ ৬৫ খানা আয়াতে বর্ণিত বদর যুদ্ধের ইতিহাস জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সর্বস্তরে সিলেবাসভুক্ত করতে হবে। বদর যুদ্ধ ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ইসলাম বলতে ঈমান নামাজ রোজা হজ জাকাত যেমন বুঝায়, তেমনি বদর উহুদ খন্দক খাইবার প্রভৃতি যুদ্ধও ইসলামের অঙ্গ। এ কারণে কোরআন মজিদে সূরা আনফাল ও আলে ইমরানে দীর্ঘ ৬৫ খানা আয়াতে বদর যুদ্ধের খুঁটিনাটি বিষয় আল্লাহ পাক সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। আমরা এই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করি, রমজানে তারাবিতে নামাজরত অবস্থায় হাফেজদের কণ্ঠে শুনি। অথচ বদর যুদ্ধ নিয়ে কোথাও আলোচনা হয় না, ওয়াজ নসিহত হয় না। ফল দাঁড়িয়েছে, মুসলিম সমাজ আজ নিস্তেজ নির্জীব, ভয় ও কাপুরুষতায় মুসলিম বিশ্বের নেতারা কাঁপছে। এ দৃশ্য আজ ইরানের উপর আমেরিকা ও ইসরায়েলের আগ্রাসী হামলার বেলায় যেমন দেখা যাচ্ছে তেমনি ফিলিস্তিনে ও গাজার মুসলমানদের উপর ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের বেলায়ও দেখা গিয়েছিল। কাজেই মুসলমানদের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে হলে অবশ্যই কোরআন ও হাদিসের যুদ্ধ সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো আমাদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ১৭ রমজান বদর দিবস উপলক্ষে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ইসলামী ঐক্য আন্দোলন ঢাকা মহানগর আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে সংগঠনের আমির ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী কথাগুলো বলেন। মহানগর শাখার আমির মাওলানা মোরশেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জাতীয় ও সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। ড. ঈসা শাহেদী আরও বলেন, পবিত্র মাহে রমজান এসেছে তাকওয়াপূর্ণ সমাজ গড়ার উদ্দেশে। যারা ইসলামের নামে রাজনীতি করেন তাদের মূল লক্ষ্যও হওয়া যায় চাই তাকওয়ার ভিত্তিতে ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করা। এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আমাদের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বস্তরে, প্রাইমারি স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে কোরআন ও হাদিসের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। তাহলেই কুরআন নাজিলের মাস রমজানে আমাদের সিয়াম সাধনা দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ বয়ে আনবে। সূত্র: সংবাদ বিজ্ঞপ্তি