
অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইন হিসেবে পাসের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। তারা জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইন পাস না হলে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি অকার্যকর হয়ে পড়বে। এতে বাড়বে মৃত্যু মিছিল, বাড়বে চিকিৎসা ব্যায়, বাধাগ্রস্থ্য হবে এসডিজি অর্জনের লক্ষমাত্রা, তৈরি হবে তামাক আসক্ত তরুণ প্রজন্ম। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন কর্তৃক আয়োজিত ‘অসংক্রমক রোগ প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের গুরুত্ব’ শীর্ষক মতবিনময় সভায় এমন দাবি জানান তারা।
বক্তারা জানান, দেশে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করেন এবং প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় তামাকজনিত রোগে; দৈনিক গড়ে ৫৪৫ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি পাস না হলে এই মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকবে। ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, তামাক খাত থেকে সরকার বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও, চিকিৎসা ব্যয়, কর্মক্ষমতা হ্রাস ও অকাল মৃত্যুর কারণে এই খাতে ব্যায়ের পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই বিপুল ক্ষতি ও প্রাণহানি রোধের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার গত ডিসেম্বরে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে। এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংসদের আইন হিসেবে পাস করা জরুরি। মূল প্রবন্ধে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম জানান, অধ্যাদেশে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে অধূমপায়ীদের সুরক্ষার জন্য সকল পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ এবং ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখার বিধান বিলুপ্ত, বিক্রয়স্থলে প্রদর্শন ও সব ধরনের বিজ্ঞাপন ও প্রচার বন্ধ, সিগারেটের প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও খেলাধুলার স্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকপণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি ড. এসএম খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাপ) সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল, বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান মাহমুদ, ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি আরিফুর রহমান টিপু, বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেম হোসেন, বাংলাদেশ গ্রোসরি বিজনেস এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসাইন খান, জাতীয় কর্মচারী ফেডারশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবুলসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।