ঢাকা শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

অভিযানের আগেই ‘গায়েব’ হকাররা, ফাঁকা ঢামেক ফুটপাত

অভিযানের আগেই ‘গায়েব’ হকাররা, ফাঁকা ঢামেক ফুটপাত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে উচ্ছেদ অভিযানের আগেই ফুটপাত ছেড়ে সরে গেছেন হকাররা। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযান শুরুর আগেই অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায় পুরো এলাকা।

জানা যায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সকাল ১০টায় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই হকাররা তাদের দোকানপাট গুটিয়ে ফেলেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাতে বসা অধিকাংশ হকার দ্রুত নিজেদের চৌকি, খাবার ও অন্যান্য পণ্য সরিয়ে ফেলেছেন। অনেকেই এসব মালামাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবনের ছাদে বা বিভিন্ন স্থানে নিয়ে রাখেন। কোথাও সারিবদ্ধভাবে চৌকি, কোথাও খাবারের ঝুড়ি ও রুটিসহ নানা পণ্য রাখা হয়েছে।

সাব্বির আহমেদ নামে এক পথচারী বলেন, ফুটপাত দখলের কারণে চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। পরিষ্কার থাকলে তেমন ঝামেলা পোহাতে হয় না। কিন্তু এই উচ্ছেদ যেন কার্যকরী হয়, সেটাই আমাদের চাওয়া।

এদিকে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হকারদের সরে যাওয়ায় অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পথচারীরা।

ফারুক হোসেন নামে একজন রোগীর স্বজন বলেন, আমরা রোগী নিয়ে আসি। কিন্তু ভেতরেও যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে কষ্ট আরও বাড়ে।

ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মো. লোকমান বলেন, আমরা আসার আগেই তারা মালামাল সরিয়ে নিয়েছে। এ এলাকাকে পুরোপুরি দখলমুক্ত রাখা খুব কঠিন। এটা হাসপাতাল এলাকা। জরুরি রোগী আনা-নেওয়ার পথ। তাই আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই।

ঢাকার রিং রোডে দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করেছে পুলিশ : রাজধানীর শ্যামলীর রিং রোডে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করাসহ সড়কে যানজট এড়াতে এই অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোড, সলিমুল্লাহ রোডেও এই অভিযান চালানোর কথা রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। ফুটপাত-রাস্তা দখল করে থাকা ছোট ছোট দোকান উচ্ছেদ করা হয়। ফুটপাতে থাকা কয়েকজনের মালপত্র নিয়ে যাওয়া হয়।রাস্তার পাশে অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা বেশ কয়েকটি প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি দোকানের সামনের রাস্তা ও ফুটপাতে বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখায় কয়েকজন দোকানিকে জরিমানা করা হয়।

ফুটপাত ও রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা রেখে পথচারী চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগেও অনেককে জরিমানা করা হয়। অনেককে সতর্কও করে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিনিয়র সিভিল জজ) মো. আল-ফয়সাল এই উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। মো. আল-ফয়সাল বলেন, ফুটপাতে মানুষের চলাচল বিঘ্নিত হয়, এমন কোনো কাজ কেউ যাতে না করতে না পারে, এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেকে সেটা মানেননি। সেই প্রেক্ষিতে কাউকে সতর্ক ও কাউকে জরিমানা করা হচ্ছে।

ফুটপাতে অবৈধ স্থাপনা আবারও বসবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা আজকে অভিযান পরিচালনা করছি। এরপরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করা হবে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন না। ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন। অভিযানের সময় অংশ নেয় মোহাম্মদপুর ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আসলাম সাগরসহ পুলিশের প্রায় অর্ধশত সদস্য।

রিং রোডের দোকানি মো. বাশেত বলেন, পুলিশ অভিযানের ঘোষণা আগে দিয়েছে। এখন অবৈধ স্থাপনা তেমন নেই। বিকালের পর দেখা যাবে আবার সবাই বসেছে। রাত পর্যন্ত এই সড়কে যানজট থাকে। কাজেই অভিযানের পর সেটার ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। না হলে কোনো লাভ নেই।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত