
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও ভোক্তা পর্যায়ে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে তেলের পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম মহানগরে ৬২ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিলেও তাদের উপস্থিতির প্রমাণ মিলছে না অধিকাংশ পাম্পে। ফলে পাম্পে চলছে আগের মতোই বিশৃঙ্খলা। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। এর আগে মঙ্গল ও বুধবার নগরের নতুনব্রিজ, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, পাঁচলাইশ, অক্সিজেন, ডবলমুরিং, নাসিরাবাদ, গণি বেকারি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক পেট্রোল পাম্প ঘুরেও দেখা যায় একই চিত্র। কোথাও দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। কোনো পাম্পে হাজিরা দিয়ে চলে গেছেন, কোনো পাম্পে একেবারেই অনুপস্থিত ছিলেন। অধিকাংশ পাম্পে বিক্রয় কার্যক্রমে কোনো দৃশ্যমান তদারকি চোখে পড়েনি। ফলে আগের মতোই বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে বিতরণ করা হচ্ছে তেল। পরে কথা বলে জানা যায়, বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা চলে গেছেন। আবার কেউ অসুস্থতা, কেউ কাজের বাহানা দিয়ে তেল দেওয়া শুরু করে দিয়ে চলে গেছেন।
কেন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও স্বচ্ছ রাখতে সরকার দেশের সব ফিলিং স্টেশনে গত ৩১ মার্চ ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেয়। চট্টগ্রাম মহানগরে এ সংখ্যা ৬২। এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো পাম্পে জ্বালানি তেল সঠিক মাপে বিক্রি নিশ্চিত করা এবং টিপ-রড বা স্টিক ব্যবহার করে মজুত তদারকি করা। এছাড়া ফিলিং স্টেশনের দৈনিক রেকর্ড নেওয়া, তেল গ্রহণ ও বিক্রির রেকর্ড রেজিস্টার মনিটরিং, ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাণ তদারকি করবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। ট্যাগ অফিসারদের নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে এবং দৈনিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। তাদের দায়িত্বের মধ্যে আরও রয়েছে- ডিপো থেকে সরবরাহ করা জ্বালানির পরিমাণ যাচাই, অননুমোদিত ট্যাংক বা স্থাপনা রয়েছে কি না এবং জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রয় প্রক্রিয়া সঠিকভাবে চলছে কি না তা দেখা। সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়, ডিপো থেকে জ্বালানি নেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে খুচরা বিক্রি শুরু না হলে তা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে প্রথমবার সতর্কতা, দ্বিতীয়বার মোবাইল কোর্ট এবং তৃতীয়বার সাময়িক স্থগিতাদেশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই কর্মকর্তারা মূলত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নির্দেশনায় প্রতিদিন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে রিপোর্ট তৈরি করেন।
ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেলেন কারা : মাঠপর্যায়ে জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থা মনিটরিং করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ৬২ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরে। ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন হলেন- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন বিপণন কর্মকর্তা শফি মো. শাহরিয়ার খান, সহকারী ব্যবস্থাপক বদরুল হক, বিক্রয় কর্মকর্তা প্রগতি চাকমা, সহকারী ব্যবস্থাপক (আইটি) মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, উপ-ব্যবস্থাপক (সেলস) মো. জসিম উদ্দিন, ব্যবস্থাপক (টিএস) তানভীর হাসান ডালাস, উপ-ব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আলী বুলবুল, সহকারী ব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. শাহীন আনোয়ার, পিওপিএলসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (হিসাব) আরিফ মাহমদ খান, পিওপিএলসি কর্মকর্তা (মানবসম্পদ) মো. সফিকুল ইসলাম, জেওসিএলের এজিএম (ডিবি) শেখ জাহিদ আহমেদ, এমপিএলের সিনিয়র অফিসার (টেকনিক্যাল) সুপ্লব কুমার প্রমুখ।
ট্যাগ অফিসারদের ডিউটি কতক্ষণ : ট্যাগ অফিসারদের নির্দিষ্ট কোনো ডিউটি নেই। মূলত তেল গ্রহণ, রেকর্ড সংরক্ষণ, তদারকি, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ, মজুত তদারকি, বিক্রির রেকর্ড রেজিস্টার মনিটরিং, ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাণ তদারকি করতে যতক্ষণ সময় যায় ততক্ষণ। প্রত্যেকের দায়িত্বে একাধিক পাম্প আছে। আর তেল দেওয়া শুরু হয় মূলত বিপিসি যখন গাড়ি পাঠায় তখন থেকেই। নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই।
ট্যাগ অফিসার না থাকলে যে সমস্যা হচ্ছে : তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে ট্যাগ অফিসার না থাকায় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে দেখা দিচ্ছে প্রধান সমস্যা। কেউ পরে এসে আগে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ লাইনই মানছেন না। অনেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে ক্ষোভ নিয়ে ফিরছেন বাড়ি। ফলে লাইনে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।