
সিলেট নগরের নালা-নর্দমা ও রাস্তাঘাটে জোরেশোরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি এবার শহর পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ শুরু করেছে সিটি কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার বিকেলে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর নেতৃত্বে এ কর্মসূচি শুরু হয়। বেলা ৩টায় নগরের সবচেয়ে ব্যস্ততম বন্দরবাজারের হাসান মার্কেট এলাকা থেকে লিফলেট বিতরণ শুরু হয়। এ সময় সিটি প্রশাসক ব্যবসায়ীদের যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট ভাগাড়ে ফেলার অনুরোধ-সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ করেন। পাশাপাশি শহর পরিচ্ছন্ন রাখার সহযোগিতাও তিনি সবার কাছে চান। লিফলেট বিতরণকালে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে নগরকে পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অনেকেই নির্ধারিত স্থানে ময়লা না ফেলে যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলায় অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক ও ড্রেন আবার নোংরা হয়ে যায়। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, অন্যদিকে নগরবাসীর ভোগান্তিও বাড়ছে।
সিলেট নগরকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী লিফলেট বিতরণকালে জানিয়েছেন। তিনি এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘নগর পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। এ জন্য নগরের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে। যদি সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামান্য সচেতন হই, যত্রতত্র ময়লা না ফেলি এবং নির্ধারিত স্থানে আবর্জনা ফেলি, তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব।’ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলার কারণে ড্রেন বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ে এবং নগরের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই আমরা একদিকে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি, অন্যদিকে নাগরিকদের সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছি। এই লিফলেট বিতরণ এরই একটি অংশ।’ আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী লিফলেট বিতরণের সময় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা রাস্তা বা ড্রেনে না ফেলে ডাস্টবিন বা নির্ধারিত পাত্রে রাখবেন এবং সিটি কর্পোরেশনের ভ্যানে তুলে দেবেন। এতে যেমন নগর পরিচ্ছন্ন থাকবে, তেমনি আপনাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় থাকবে।’
লিফলেট বিতরণকালে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মো. আজিজুল করিম, সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাদী পাবেল, সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, মো. মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে যোগাযোগ করলে সিটি প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘মাত্র কিছুদিন হলো সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। এরপরই নগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাকে চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু করেছি।’